জাতীয়

বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার চেষ্টা চলছে’

ঢাকা, ফেব্র“য়ারি ২০ – বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার চেষ্টা চলছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে সাধারণ পরিষদে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়েছে।

চলতি বছর একুশে পদকের জন্য মনোনীত ১৫ জনের মধ্যে পদক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতার চার মূল স্তম্ভকে যারা অস্বীকার করে- তারা একুশের শত্র“, স্বাধীনতার শত্র“।

“এদের মোকাবেলা করার জন্য আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে একুশের চেতনা ছড়িয়ে দিতে হবে। এ জন্য বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের চর্চা সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ও স্তরে পৌঁছে দিতে হবে।”

সোমবার সকালে ওসমানী মিলনায়তনে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখার জন্য সবাইকে সজাগ থাকারও আহ্বান জানান শেখ হাসিনা।

একুশকে ফেব্র“য়ারিকে ‘মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বাঙালির আত্মত্যাগের এক বীরত্বের কাহিনী’ অভিহিত করে শেখ হাসিনা বলেন, “একুশ বাঙালি জাতির চেতনা ও গৌরবের উৎস। একুশ আমাদের অহঙ্কার। আমাদের সামগ্রিক পরিচয়। তাই একুশে পদক প্রাপ্তি অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের বিষয়।”

জাতিসংঘে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম বাংলায় ভাষণ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য বিশ্ব অঙ্গনে তুলে ধরার লক্ষ্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেন। জাতির পিতাকে অনুসরণ করে আমিও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দিয়ে যাচ্ছি।”

তথ্য প্রযুক্তিতে বাংলার ব্যবহার নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, “আমরা এ মাস থেকে সব ব্রান্ডের বেসিক মোবাইল হ্যান্ডসেটে পূর্ণাঙ্গ বাংলা কি-প্যাড সংযোজন বাধতামূলক করেছি। ডট বিডির পাশাপাশি দ্বিতীয় কান্ট্রি কোডেড টপ লেবেল ডোমেইন হিসেবে ডটবাংলা (.বাংলা) প্রবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছি।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত, তমুদ্দিন মজলিসের নেতৃবৃন্দসহ সব ভাষা সৈনিককে স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, “মায়ের ভাষাকে মর্যাদার আসনে বসাতে গিয়ে আজ থেকে ৬০ বছর আগে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, সফিউরসহ আরো অনেকে প্রাণ দিয়েছেন। আমি তাদেরকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি।”

১৯৫২ সালের একুশে ফেব্র“য়ারির রক্তস্নাত গৌরবের সুর এখন বিশ্বের ১৯৩টি দেশের মানুষের প্রাণে অনুরণিত হয়- এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কানাডা প্রবাসী কয়েকজন বাঙালির উদ্যোগ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সহায়তায় ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

“একুশ আজ বিশ্বের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভাষার অধিকার রক্ষার দিন”, যোগ করেন তিনি।

ভাষা আন্দোলনের অসা¤প্রদায়িক চেতনাকে ধারণ করেই ১৯৭২ সালে সংবিধানে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রের অন্যতম মূল নীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয় বলেও উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।

একুশে পদক পেলেন ১৫ জন

চলতি বছর একুশে পদকপ্রাপ্ত ১৫ জনের মধ্যে সাতজন মরণোত্তর এ পদক পেলেন।

এবার শিক্ষাক্ষেত্রে অবদানের জন্য একুশে পদক পেয়েছেন অধ্যাপক এ কে নাজমুল করিম; শিল্পকলায় তারেক মাসুদ ও মোবিনুল আজিম; ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য মমতাজ বেগম; ভাষা ও সাহিত্যে অধ্যাপক হুমায়ুন আজাদ এবং সাংবাদিকতায় এহতেশাম হায়দার চৌধুরী ও আশফাক মুনীর। এই সাতজনই মরণোত্তর এই পদক পেলেন।

এছাড়া শিক্ষাক্ষেত্রে ড. মনসুরুল আলম খান ও অধ্যাপক অজয় কুমার রায়, শিল্পকলায় অধ্যাপক করুণাময় গোস্বামী, মামুনুর রশীদ ও ড. ইনামুল হক; সমাজ সেবায় শ্রীমৎ শুদ্ধানন্দ মহাথের, সাংবাদিকতায় হাবিবুর রহমান মিলন এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে অধ্যাপক বরেণ চক্রবর্তী চলতি বছরের একুশে পদক পেলেন।

সরকার গত ৯ ফেব্র“য়ারি মর্যাদাপূর্ণ এ পদকের জন্য তাদের নাম ঘোষণা করে। সবাই একটি করে স্বর্ণপদক, এক লাখ টাকা ও সম্মাননাপত্র পেয়েছেন।

পদকপ্রাপ্তদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, “আজকের এই পুরস্কার আপনাদের দীর্ঘদিনের সাধনা, মেধা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি। আমি মনে করি, আজ থেকে একুশের চেতনা বাস্তবায়নে আপনাদের দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে।

“পদকপ্রাপ্তদের অনেকে আমাদের মাঝে নেই। তাদের অবদান আমরা স্মারণ করি”, যোগ করেন শেখ হাসিনা।

অনুষ্ঠানে মোবিনুল আজিমের পক্ষে তার স্ত্রী মমতাজ আজিম, তারেক মাসুদের পক্ষে তার স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদ, এহতেশাম হায়দার চৌধুরীর পক্ষে তার স্ত্রী সুফিয়া হায়দার চৌধুরী, আশফাক মুনীরের পক্ষে তার মা লিলি চৌধুরী, এ কে নাজমুল করিমের পক্ষে তার মেয়ে শাহনাজ নাজনীন করিম এবং হুমায়ুন আজাদের পক্ষে তার স্ত্রী লতিফা খানম প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে পদক নেন।

মঞ্চে উঠেই শেখ হাসিনাকে আলিঙ্গন করেন ক্যাথরিন। আর লিলি চৌধুরী মঞ্চে ওঠেন অশ্র“সিক্ত চোখে। শেখ হাসিনা তাকে হাত ধরে তাকে মঞ্চের মাঝে নিয়ে আসেন। পদক বিতরণ শেষে প্রধানমন্ত্রী সবার সঙ্গে ছবি তোলেন।

তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম। মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূঁইঞা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন। ।

অনুষ্ঠানে, মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সাংসদ, উর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: