জাতীয়

বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি লোকের ভাষা বাংলা

ইসলাম রবি:২১ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা এবং ভাষা আন্দোলন বিশ্বের কাছে আমাদের নতুন পরিচয়ে পরিচত করেছে। তার ফল স্বরূপ আমরা ২১শে ফেব্রুয়ারীকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছি। সম্প্রতি ভাষার উদ্ভব সম্পর্কে চমকপ্রদ এক গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। যে ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত অত্যন্ত মর্যাদাবান সাপ্তাহিক ‘সায়েন্স একাডেমিক’ জার্নালে। আমেরিকান অ্যাসোসিয়েশন ফর দি এডভান্সমেন্ট অব সায়েন্সের এই বিখ্যাত প্রকাশনা ১৮৮০ সাল থেকে নিয়মিত প্রকাশ হয়ে আসছে। বিদেশে বর্তমানে ছাপা পত্রিকার দৈন্যদশার কালেও সায়েন্স পত্রিকার সাপ্তাহিক গ্রাহক সংখ্যা এক লক্ষ ৩০ হাজার।২০১১ সালের ১৪ এপ্রিল সায়েন্স সাপ্তাহিকে ‘দি মাদার অব অল ল্যাংগুয়েজেজ’ শীর্ষক গবেষণালব্ধ প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার পরের দিনই অন্যতম শীর্ষ মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড ইউনিভার্সিটির বিবর্তনমূলক মনস্তত্ত্ববিষয়ক অধ্যাপক কুয়েনটিন এটকিনসনের গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।‘সকল ভাষার মাতৃরূপ’ গবেষণাকর্মে প্রফেসর এটকিনসন চমক সৃষ্টি করার মতো তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার নতুন গবেষণার ফলাফল হল : পৃথিবীর প্রায় ২ হাজার আধুনিক ভাষার উৎস একটি মাত্র ভাষা থেকে। যা পঞ্চাশ থেকে সত্তর হাজার বছর আগে প্রাচীন আদিবাসীদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। পর্যায়ক্রমে দেশান্তরী আফ্রিকানদের মাধ্যমে এই ভাষা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণার এই তথ্য দি মাদার অব অল ল্যাংগুয়েজেজ ভাষাবিজ্ঞানীদের মধ্যে বিতর্ক সৃষ্টি করতে পারে। তাই ঢাকার একটি ইংরেজি দৈনিকে নিবন্ধ লিখেন ফখরুজ্জামান চৌধুরী। যা ২০১১ সালের ৬ মে তারিখের উইক অ্যান্ড ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়। দেশে এ নিয়ে ভাষাবিদদের মধ্যে তেমন কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এমনকি বর্তমান বিশ্বে সেরা ভাষাতত্ত্ববিদদের অন্যতম নোয়াম চমস্কিরও এ ব্যাপারে মন্তব্য করেননি। প্রফেসর কুয়েনটিন এটকিনসনের সমর্থনে যারা এগিয়ে এসেছেন, তাঁরাও এ ব্যাপারে বিষদ ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তাঁদের এই মনোভাব থেকে বুঝা যায়, বাংলা ভাষার উৎস ইন্দো-আর্য ভাষা। এতে এ যাবৎকালে প্রচলিত ধারণা চ্যালেঞ্জের সম্মুখিন হয়। বাংলা ভাষার জন্ম ১০০০ হাজার থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দের দিকে হলেও এর সমৃদ্ধি বিস্ময়কর। বিশ্বের প্রায় ২৫ কোটি লোকের ভাষা বাংলা। যার একটা বড় অংশের বসবাস বাংলাদেশে। বাংলা যেমন দেশের অহংকার, বাংলার অহংকারও তেমনি এ দেশ। দেশে বর্তমানে প্রচলিত বাংলা ভাষার লেখ্য ও বাচ্যরূপকে যদি বিশুদ্ধতম রূপ বলা হয়, তাতে কোন ভুল হবে না। বাংলা ভাষার আরেক রূপ আমরা দেখি পশ্চিমবঙ্গে। তার সাথে আমাদের বাংলার অমিল শুধু উচ্চারণে, প্রকরণে নয়। সেখানকার লোকজনের মানসিকতার কারণে। বাংলাভাষীরা অবলীলায় দেখি হিন্দি, ইংরেজি বিভিন্ন শব্দের মিশ্রণে কথা বলেন। এর ঢেউ বর্তমানে বাংলাদেশেও অনুভূত হচ্ছে।বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল ভারতে অচ্ছ্যুৎ হলেও সে দেশের সর্বভাষার চ্যানেলের এদেশে রমরমা প্রসার। অনিবার্যভাবেই কলকাতাভিত্তিক বাক্যাংশ আমাদের ভাষায় ঢুকে যাচ্ছে। আগে নিয়ম ছিল, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির পণ্যের বিজ্ঞাপন অন্য দেশে প্রচার করতে হবে। প্রচারিতব্য দেশের ভাষায় অডিও ডাবিং করতে হবে। এখন আর এসব মানা হয় না। একে অনেকে বলে থাকেন, ভাষার আগ্রাসন। আবার কারো কারো মতে ভাষা বহতা নদীর মতো গ্রহণ আর বর্জনের মধ্য দিয়ে বেঁচে থাকে।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: