রাজনীতি

গোলাম আযমের জামিন নাকচ

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৩- যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর গোলাম আযমের জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বিচারপতি নিজামুল হকের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেয়।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ৮৯ বছর বয়সী গোলাম আযমকে গত ১১ জানুয়ারি কারাগারে পাঠায় আদালত। চিকিৎসকের পরামর্শে ওইদিনই তাকে স্থানান্তর করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে। এরপর থেকে হাসপাতালেই রয়েছেন তিনি।

তার পক্ষে জামিনের আবেদন করে আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক ট্রাইব্যুনালকে বলেন, গোলাম আযমের স্বাস্থের অবস্থা ভালো নয়। তার ওজন কমে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে তার ভালো চিকিৎসাও সম্ভব হচ্ছে না।

এই আবেদন খারিজ করে ট্রাইব্যুনাল বলে, সাবেক জামায়াত আমীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমালে নিয়ে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তাকে জামিন দেওয়ার সুযোগ নেই।

তাছাড়া বঙ্গবন্ধু মেডিকেলের চেয়ে ভালো চিকিৎসা গোলাম আযম বাংলাদেশে আর কোথাও পাবেন না বলে আদেশে উল্লেখ করেন বিচারক।

ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটররা বুধবার গোলাম আযমের বিরুদ্ধে ১৯১ পৃষ্ঠার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন শেষ করেন। আগামী ২৭ ফেব্র“য়ারি অভিযোগের দ্বিতীয় অংশে কিছু ভিডিওচিত্র উপস্থাপন করবেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর জেয়াদ আল মালুম।

গোলাম আযমের বিরুদ্ধে অভিযোগ, একাত্তরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুুদ্ধের সময় তার নেতৃত্বে নানা জায়গায় শান্তি কমিটি, রাজাকার, আল বদর, আল শামস, পাইওনিয়ার ফোর্স, মুজাহিদ বাহিনী নামে পাকিস্তানপন্থী সংগঠন গঠন করা হয়। এসব সংগঠনকে অস্ত্র সরবরাহ করা এবং এ বিষয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর কাছে সুপারিশ করার দায়িত্বও ছিল তার।

একাত্তরের ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা শুরুর পর খাজা খায়রুদ্দিনকে আহ্বায়ক করে ১৪০ সদস্যের যে শান্তি কমিটি হয়, তার তদারকিতে গঠিত কমিটির ছয় জনের এক জন ছিলেন গোলাম আযম।

১৯৭১ সালে ঈদের দিন গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া কারাগার থেকে ৩৮ জনকে এনে কৈরতলা এলাকায় হত্যা করা হয়, যার সঙ্গে গোলাম আযম সম্পৃক্ত ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এছাড়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেওয়ার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও প্রকাশ্যে তদবির চালান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর আমীর গোলাম আযম।

১৯৭১ থেকে ৭ বছর লন্ডনে অবস্থান করার পর ১৯৭৮ এ সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আমলে আবার বাংলাদেশে আসেন এই জামায়াত নেতা।

দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী

প্রসিকিউশন নতুন কোনো সাক্ষী হাজির করতে না পারায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মামলায় বৃহস্পতিবারও সাক্ষ্যগ্রহণ হয়নি।

যুদ্ধাপরাধের এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৪ মার্চ নতুন তারিখ রেখেছে ট্রাইব্যুনাল।

এর আগে বুধবারও নির্ধারিত সাক্ষী অসুস্থতার কারণে উপস্থিত হতে না পারায় সাক্ষ্যগ্রহণ মুলতবি করা হয়েছিল।

একাত্তরে তিন হাজারেরও বেশি নিরস্ত্র ব্যক্তিকে হত্যা বা হত্যায় সহযোগিতা, নয় জনের বেশি নারীকে ধর্ষণ, বিভিন্ন বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, ভাংচুর এবং একশ থেকে দেড়শ হিন্দুকে ধর্মান্তরে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে সাঈদীর বিরুদ্ধে, যাকে একাত্তরে তার এলাকার লোকজন ‘দেইল্লা রাজাকার’ নামে চিনতো।

গত বছরের ৩ অক্টোবর প্রথম ব্যক্তি হিসেবে জামায়াতের এই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয় ট্রাইব্যুনালে। এর আগে ২০১০ সালের ২৯ জুন সাবেক সংসদ সদস্য সাঈদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। ট্রাইব্যুনাল গত বছর ১৪ জুলাই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: