অর্থনীতি

মিরসরাইয়ে হবে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল

ইছাখালীর চর পরিদর্শনে এসে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবিত নকশা দেখছেনড. মশিউর রহমান।

ইছাখালীর চর পরিদর্শনে এসে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রস্তাবিত নকশা দেখছেনড. মশিউর রহমান।

মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন, মিরসরাই: সংসদে বিল পাস হওয়ার দেড় বছর পর দেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলতে বেছে নেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের মিরসরাইকে। উপজেলার ইছাখালীর চরে ৪৯ হাজার ২০০ একর জমিতে এই অঞ্চল গড়ে উঠলে বদলে যাবে মিরসরাই, বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির রূপরেখা।

জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল বিল পাস হয় ২০১০ সালের আগস্ট মাসে। এরপর একই বছরের ২৯ ডিসেম্বর মহামায়া প্রকল্পের উদ্বোধন করতে এসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিশ্রুতি দেন, ‘মিরসরাইয়ের ইছাখালীর চরে শিল্পপার্ক গড়ে তোলা হবে।’ এরপর শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়াকে শিল্পপার্কের কাজ শুরু করতে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী। মাঠপর্যায়ে জরিপ করতে গিয়ে শিল্পপার্ক নয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার জন্য এই চরকে বেছে নেওয়া হয়।
নিকটবর্তী হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রে আরেকটি বন্দর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে এর মধ্য দিয়ে চাপ কমবে চট্টগ্রাম বন্দরের। এ ছাড়া বেড়িবাঁধ দিয়ে বিকল্প সড়ক নির্মাণের ফলে উন্নতি ঘটবে যোগাযোগ ব্যবস্থায়। ১৭ হাজার একর জমিতে শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে রূপ লাভ করায় পুরো দেশের পাশাপাশি স্থানীয় লোকজনও উপকৃত হবে।
আগামী মাসের (মার্চ) মাঝামাঝি সময়ে স্থান চূড়ান্ত করতে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় স্থান চূড়ান্ত করার পাশাপাশি আরো কী পরিকল্পনা নেওয়া যায় সেই বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। তবে সব কিছু ঠিক থাকলে জায়গা হিসেবে মিরসরাইয়ের ইছাখালীর চর চূড়ান্ত হবে।
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল গত বুধবার ইছাখালীর চর পরিদর্শন করেন। প্রতিনিধিদলের অন্য সদস্যরা হলেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সরকারের সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহম্মদ, মিরসরাই উপজেলা চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদ কুতুব, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফেরদৌস হোসেন আরিফ। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহমান  বলেন, ‘এখন কেবল স্থান নির্ধারণ চূড়ান্ত করার অপেক্ষা। এরপর বিভিন্ন পরিকল্পনা শুরু হবে। আশা করি, মার্চে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং স্থান হিসেবে ইছাখালীর চরকে নির্ধারণ করা হবে।’
ইছাখালীর চরকে সম্ভাবনাময় অঞ্চল উল্লেখ করে উপদেষ্টা আরো বলেন, ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল করতে গিয়ে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না। সামগ্রিকভাবে দেশ যেমন লাভবান হবে, তেমনি মিরসরাইবাসীও উপকৃত হবে। বড় কাজ, বড় আকাঙ্ক্ষার মধ্যেও অনেক রকমের সমালোচনা আসতে পারে। তবে দেশের স্বার্থে বিষয়টি ভিন্নভাবে না দেখে সবাইকে একযোগে কাজ করা উচিত।’
শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া বলেন, ‘মিরসরাইয়ে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই সরকারের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হতে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যমানের শিল্পসমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা। সেই স্বপ্ন পূরণ হবে এর মধ্য দিয়ে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে উৎসাহী হয়, সেই পরিস্থিতি তৈরি করা হবে।’
সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ইছাখালীর চরে অনেক জমি বছরের পর বছর অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। সম্ভাবনাময় এই জমি কাজে লাগাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন ছিল, ইছাখালীর চরের ১৭ হাজার একর জমিতে শিল্পপার্ক গড়ে তোলা। কিন্তু প্রত্যাশার চেয়েও বেশি কিছু পাবে মিরসরাই তথা দেশ।’
মিরসরাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গিয়াস উদ্দিন  বলেন, মিরসরাই অঞ্চলের অসংখ্য মানুষ এখনো বেকারত্ব থেকে মুক্তি পায়নি। এখানে কোনো কলকারখানা না থাকায় যুবকরা বেকার জীবন কাটাচ্ছে। বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠলে তাদের দীর্ঘদিনের বেকারত্ব দূর হবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে মিরসরাই বড় ভূমিকা রাখবে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাঈদ কুতুব বলেন, ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে কেন্দ্র করে উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপর দিয়ে একটি বিকল্প সড়ক নির্মাণ করা হবে। চট্টগ্রাম থেকে মিরসরাইয়ের মুহুরী প্রকল্প পর্যন্ত এই সড়কের দূরত্ব হবে ৭৭ কিলোমিটার। এই সড়কটি হলে বর্তমান ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চট্টগ্রাম জোনে কিছুটা চাপ কমবে।’

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: