জাতীয়

ক্ষমা চাই, আমরা জনগণ, আমরা লজ্জিত

রোকেয়া প্রাচী, অভিনয়শিল্পী

নিরাপত্তা দাবি করা আমাদের উচিত হয়নি। হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করাও আমাদের উচিত হয়নি। মোটেও উচিত হয়নি। আমরা জনগণ, আমাদের কাজ চুপচাপ থাকা। এতো বেশি কথা বলা কেন?

জনগণ ভোটের সময় ভোট দেবে। এবার এই দল, পরের বার অন্যদলকে। যে যত সুন্দর নির্বাচনী ইশতেহার বানাবে, যে যত বেশি বেশি দেবে বলে প্রলুব্ধ করতে পারবে, আমরা লক্ষ্মী জনগণ সে দলকে ভোট দেবো।

ভোট দেবার সময় সব ভুলে যাব, অথবা নির্বিকারভাবে যে কোন অশিক্ষিত, অযোগ্য, সন্ত্রাসী, মামলাবাজ, দখলবাজ, সুবিধাবাদী, জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্তহীন দলীয় প্রতিনিধি, যারা দেশের শত্রু তাদের ভোট দেব অবলীলায়! আসলে আমরা সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে চাই না। ঘুরে ফিরে দলকেই নির্বাচিত করি।

হঠাৎ জাদুমন্ত্রে ছোঁয়ায় পাঁচ বছরের সকল অবিচার অবহেলা সব, সবকিছু ভুলে যাই বেমালুম। আমরা জনগণ একটা ঘোরের মধ্যে চলে যাই। তারপর পাঁচ বছরে (৩৬৫ দিন গুণ ৫) হিসাব করে প্রতিটি দিন ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুবরণ করি। আর প্রশাসনের কঠোর কঠিন নিষ্ঠুর আচরণে শিউরে শিউরে আতংকিত আর উৎকন্ঠিত হই।

নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা নানারকম মানববন্ধন করে চেষ্টা করেন নিজেদের এবং জনগণকে সজাগ রাখবার। কে কোথায় আর সজাগ থাকে? আমরা কি আদৌ বেঁচে আছি?

একবার যদি আমাদের সরকার চেষ্টা করতেন খুব কঠিন ছিল না সুনিয়ন্ত্রিত দেশ গড়া। জনগণের নিরাপত্তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব। অথচ রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহীর আক্রোশ জনগণের ওপরই বেশি। যেন ১৬ কোটি জনগণের দু-একজন মরলে এতো কথা কেন? কয়েকজন মন্ত্রী অনেকদিন যাবৎ বোঝানোর  চেষ্টা করছেন ‘মৃত্যু নিয়ে এতো কথা বলার কিছু নেই- অ্যাকসিডেন্ট ইজ অ্যাকসিডেন্ট… ইত্যাদি’।

আমরা বুঝিনি। বড় বেয়ারা আমরা। মানববন্ধন আর সমাবেশ করে করে আমরা খুব বিরক্ত করে ফেলেছি তাদের।

মাননীয় আপা, বেয়াদবী দেবেন না। অনুনয় করে ক্ষমা চাইছি। কেন এতো মানববন্ধন আর সমাবেশ করে আপনাকে, আপনার সরকারকে বিব্রত করা।

সত্যিই তো, সবার বেডরুমে কি পাহারা বসানো সম্ভব? আগের সরকার আমাদের রক্ত ঝরিয়েছে, কাজেই এখনও রক্ত ঝরতেই পারে। এতো জনগণের জন্য তো আলাদা করে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। এটা আমাদের অতিরিক্ত আবদার।

রাষ্ট্রের কাছে জনগণের দাবির এই জবাব, পৃথিবীর অন্যান্য সভ্য দেশ কি এভাবে নিরাপত্তা দিয়েছে বা দেয়? কিংবা এভাবে কথা বলে? আমাদের সরকার প্রধান বলেন এভাবেই। কারণ তিনি ভীষণ বিরক্ত এ দেশের আইন শৃঙ্খলার উপর! তিনি অসহায় এদেশের প্রশাসনের উপর! স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর উপর। কারণ হয়তো কোথাও কোন কিছুতেই নিয়ন্ত্রণ নেই তার…। তাই একটু কড়া জবাব, জনগণকে অবুঝ অর্বাচীন ভেবে বলেছেন। আমরা জনগণ তো এমন উপহাস আর অবজ্ঞায় অনেকটা অভ্যস্ত এখন!

… তবুও মনটা খারাপ আপা! বড় আশায় ছিলাম, অনেক স্বপ্নে বিভোর হয়ে আপনার দিন বদলের ডাকে সাড়া দিয়েছিলাম। খুব হতাশ হলাম আমরা! আমরা সকল জনগণ লজ্জিত। এই কথাগুলো আমরা চরম শিক্ষা হিসাবে নিলাম।

দেখবেন, পরবর্তী নির্বাচনের সময় (যদি নির্বাচন হয়!) আজকের লজ্জিত মর্মাহত জনগণ আর কোনো ঘোরের শিকার হবে না। জনগণ ঘুরে দাঁড়াবেই।

আমাদের প্রলুব্ধ করতে আপনাদেরও এবার নতুন করে ভাবতে হবে।

রোকেয়া প্রাচী: খ্যাতনামা অভিনয় শিল্পী

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: