মুক্তমত

কৌশলের ৪৮ ঘণ্টা?

গোলাম মোর্তোজা

ছোট হয়ে আসছে পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হয়ত আরো ছোট হবে। এক সময় প্রথম পাতার গুরুত্ব হারিয়ে চলে যাবে ভেতরের পাতায়। সহকর্মী, বন্ধু, আত্মীয়পরিজনেরা শোক কাটিয়ে উঠবেন। জীবন চলবে জীবনের নিয়মে। পত্রিকার ভেতরের পাতায়ও স্থান পাবার গুরুত্ব হারাবে সাগর-রুনি। আরেকটি ঘটনা অথবা দুর্ঘটনা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ব আমরা, সাগর-রুনির সহকর্মীরা। ‘মা’ পৃথিবীর কঠিনতম যন্ত্রণা বুকে ধারণ করে বেঁচে থাকবেন আরো কিছুকাল। চোখ দিয়ে গড়িয়ে যাবে আরো অনেক পানি। ‘মেঘ’ বড় হয়ে উঠবে প্রকৃতির নিয়মে।
দুঃসহ সেই হত্যাযজ্ঞই হয়ত তার কাছে মা-বাবার স্মৃতি। মা-বাবার আদর, ভালোবাসা কতটা মনে থাকবে মেঘের!
এভাবেই সাগর-রুনির সবকিছু মুছে যাবে পৃথিবী থেকে।
এটাই হয়ত নিয়ম!
সাগর বা রুনির বাসায় ‘হত্যা’ দিনে মিলাদের আয়োজন হবে। সাগর-রুনির সহকর্মী অনেকের সময়ই হবে না মিলাদে যোগ দেয়ার।
উপরের এই অংশটুকু লেখার পর সাগর-রুনির হত্যাকা- নিয়ে আর কিছু না লিখলেও চলে। আর লিখতে হলে কিছু ‘প্রশ্ন’ চলে আসবে। যে প্রশ্নগুলোর উত্তর আমাদের কাছে নেই। হয়ত উত্তর জানার অধিকার আছে। জানি উত্তর হয়ত কোনোদিনই পাওয়া যাবে না। যত উত্তর খুঁজতে যাব, তত বেশি কষ্ট পাব। যন্ত্রণা বাড়বে। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের তামাশাপূর্ণ আচরণে আরো একটু অসুস্থ হয়ে পড়বে সাগর-রুনির মা। আকাশে বাতাসে থাকা প্রশ্নগুলো বারবার বিদ্ধ করবে অসুস্থ হৃদয়ে। কিন্তু প্রশ্নগুলো বিদ্ধ করবে না প্রশাসনকে, রাজনীতিকে। বাংলাদেশ রাষ্ট্রের নিয়মই যেন হয়ে গেছে এমন।
ঘটনা ঘটবে, জানা যাবে না কেন ঘটল।
লেখার এই পর্যায়ে এসে কেউ ভাবতেই পারেন এখনই এমন কথা লিখছি কেন? তদন্ত তো শেষ হয়নি, চলছে? আসল ঘটনা বের হলেও তো হতে পারে?
আশা করতে দোষ নেই। আমরা সত্যি সত্যি চাই এই লেখার আশঙ্কা মিথ্যা প্রমাণিত হোক। বের হয়ে আসুক আসল ঘটনা। কিন্তু চলমান প্রশাসনিক প্রক্রিয়া প্রতিদিন আশঙ্কার জন্মই দিয়ে যাচ্ছে। তাদের ক্রিয়াকর্মে আশঙ্কা দূর হবার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যা সবার কাছেই পরিষ্কার। তারপরও আমরা লিখছি।
কেন লিখছি?
আর কিছু করতে পারছি না বলে লিখছি। উত্তর না জানা প্রশ্নগুলো লিখে যাচ্ছি শুধু।

১. ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করা হবে। ৪৮ ঘণ্টা শেষ হবার কয়েক ঘণ্টা আগেও শোনানো হলো একই আশাবাদ। ‘৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার’Ñ এ কথা প্রধানমন্ত্রীর, এ কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। ৪৮ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রধান জানালেন, ‘প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। আর একটু সময় দরকার। কত সময়? হয়ত ঘড়ির কাঁটা না থেমে যাওয়া পর্যন্ত!
২. খবর ছড়িয়ে পড়ল সংবাদকর্মীদের কেউ কেউ জড়িত এই হত্যাকা-ে। দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাল পুলিশ। ‘তদন্তে কোনো সংবাদকর্মীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি’- গুজব ছড়ানো বন্ধ করার জন্যে এই প্রতিক্রিয়া প্রশংসার দাবিদার। কিন্তু তদন্তের সূচনালগ্নে এমন প্রতিক্রিয়া কতটা বিজ্ঞানসম্মত? হয়ত সংবাদকর্মীদের বিষয়টি অত্যন্ত সেনসেটিভ তাই পুলিশ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। কিন্তু এই প্রতিক্রিয়া যে প্রশ্নের জন্ম দিল, সেই প্রশ্নের উত্তর কি দেয়া প্রয়োজন ছিল না পুলিশের?
৩. ‘১০০% নিশ্চিত না হলে কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।’ তদন্ত চলাকালীন কী এমন সিদ্ধান্ত নেয়া যায়? তদন্তের শেষে এসে পুলিশ হত্যাকারী সম্পর্কে ১০০% নিশ্চিত হতে না পারলে কি হবে? যদি দেখা যায় তদন্তে ৯০% নিশ্চিত হওয়া গেল। তখন পুলিশ কি করবে? সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে বাকি ১০% নিশ্চিত হবার চেষ্টা করবে না তদন্ত সমাপ্তি ঘোষণা করবে?
৪. ৪৮ ঘণ্টা পর পুলিশ প্রধান বললেন, ‘প্রণিধানযোগ্য’ অগ্রগতি হয়েছে। আর হত্যাকা-ের সাতদিন বা ১৬৮ ঘণ্টা (লেখা চলাকালীন) পুলিশ বলছে হাতের ছাপ ‘অস্পষ্ট’। হত্যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলামত হাতের ছাপ। সেটা তো পুলিশ সঙ্গে সঙ্গেই নিয়েছে। আধুনিক এই যুগে হাতের ছাপ পরীক্ষা করতে কয়েক ঘণ্টা সময় লাগে। সেখানে ১৬৮ ঘণ্টা কেন লাগল পুলিশের? তাহলে ‘প্রণিধানযোগ্য’ অগ্রগতিটা কি?
৫. ডিবি প্রধান জানালেন রাষ্ট্র তার সর্বশক্তি দিয়ে তদন্ত করছে। ‘হাতের ছাপ অস্পষ্ট’ এটা বলতে সাতদিন সময় লাগবে? এটাই রাষ্ট্রের সর্বশক্তি? কোন রাষ্ট্রে বাস করছি আমরা!
৬. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ‘মামলা ধামাচাপা দিতে দেয়া হবে না। এটা প্রধানমন্ত্রী নিজে দেখভাল করছেন।’ তিনি নিজেই আবার প্রশ্ন করেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে ক্ষমতাবান কে?’ প্রধানমন্ত্রীর চেয়ে ক্ষমতাবান কেউ আছেন কিনা সরকারের ভেতরেÑ আমরা জানি না। ব্যাকরণ অনুযায়ী থাকার কথা নয়। যদিও আওয়ামী শুভানুধ্যায়ী হিসেবে পরিচিত দক্ষ ব্যাংকার অর্থনীতিবিদ খন্দকার ইব্রাহীম খালেদ শেয়ারবাজার বিষয়ে বলেছেন, ‘সরকারের ভেতরে আরেকটি সরকার কাজ করছে।’ যাই হোক সেই প্রশ্নে যাচ্ছি না। (প্রিয় পাঠক বর্তমান সংখ্যায় ডা. এম হাসানের সাক্ষাৎকারটি মনোযোগ দিয়ে পড়ার অনুরোধ করছি) কিন্তু একটি হত্যা মামলার তদন্ত দেখার দায়িত্ব কেন দেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিতে হবে? ফুল মন্ত্রী আর হাফ মন্ত্রীÑ আপনারা কি করছেন?
৭. ফুল মন্ত্রী বলছেন, ৪৮ ঘণ্টা সময় নির্ধারণ করে দেয়া ছিল তদন্তের কৌশল। এটা কি ধরনের কৌশল? কামান চাইলে বন্দুক পাওয়া যাবে- এ ধরনের কৌশল? এটা তো ১০০ বছর আগের কৌশল। আপনারা না আধুনিক, ডিজিটাল?
৮. এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ, চাঞ্চল্যকর কথা বলেছেন হাফ মন্ত্রী শামসুল হক টুকু। ‘সাংবাদিক হত্যাকা-ের সঙ্গে জামায়াত শিবির জড়িত।’ তিনি তো স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ ছাড়া তদন্ত চলাকালীন কথা বলবেন না। তার কাছে নিশ্চয়ই তথ্যপ্রমাণ আছে। জনগণকে কি তা জানাবেন? আর যদি তথ্যপ্রমাণ না থেকে থাকে, তবে হত্যাকা- নিয়ে এমন মন্তব্য করার অধিকার কী আপনার আছে? যেহেতু নিজেই বিষয়টি দেখছেন প্রধানমন্ত্রী, তাই তিনি তার স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে জানতে চাইবেন- কিসের ভিত্তিতে তিনি এমন কথা বললেন?
মানুষের নিরাপত্তা দেয়া না মানুষ নিয়ে ‘তামাশা’ করা- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের কাজ কোনটা?
৯. আকাশে বাতাসে অনেক কথা, অনেক গল্প, অনেক গুজব। এসবের একমাত্র জবাব সঠিক তদন্ত। কিন্তু প্রশাসনের কর্মকা-ে গুজব শুধু ডালপালা মেলছে, অবসান হচ্ছে না একটুও। এই হত্যাকা-ের সঙ্গে অনেক বড় কেউ সম্পৃক্ত হয়ে পড়েছেন, চাইছেন না প্রকৃত ঘটনা জানা যাক, দেশের বাইরে থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে সব কিছু, ‘ধীরে চল নীতি’তে অগ্রসর হোক তদন্ত…। এসব কথা এখন জনমানুষের মুখে মুখে। বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত না হলে মানুষের মুখ বন্ধ হবে না। গুজব রটনা আরো বিস্তৃত হবে। কাকে বহন করতে হবে এর দায়ভার? সরকার কী বিষয়টি বুঝতে পারছে?
১০. সরকারের কেউ এ হত্যাকা- ঘটাতে পারে- এমনটা বিশ্বাস করার কোনো কারণ দৃশ্যমান নয়। কিন্তু প্রকৃত হত্যাকারী যদি ধরা না পড়ে, মানুষের মনে এই বিশ্বাস যদি স্থায়ী আসন করে নেয় যে সরকার ঠিকমতো তদন্ত করছে না, সরকার হত্যাকারীদের খুঁজে বের করবে না বা করছে নাÑ তার দায় কিন্তু পুরোটাই নিতে হবে সরকারকে। অন্য আর দশটি হত্যাকা-ের সঙ্গে এই হত্যাকা-টি মিলিয়ে ফেললে সরকারের নীতিনির্ধারকরা হয়ত ভুলই করবেন। এই একটি হত্যাকা-ের সুরাহা করতে না পারা বা না চাওয়ার অনেক বড় মূল্য দিতে হতে পারে।
জনমানুষ যদি ভেবে নেয় এই সরকার অস্বচ্ছ, অদক্ষ, নির্বিকারÑ খুব একটা দোষ কি দেয়া যাবে? সিটি কর্পোরেশন বা জাতীয় নির্বাচনে এর কি কোনো প্রভাব পড়বে না?
১১. আমাদের সবগুলো সরকার পুলিশকে গল্প বানানোর সুযোগ করে দেয় অথবা সহায়তা করে। সাগর-রুনি সংবাদকর্মী হওয়ায় পুলিশ নিজে গল্প তৈরি করার সাহস দেখায়নি। তবে তাদের একান্ত অনুগত কিছু সংবাদকর্মীকে দিয়ে গল্প বানানোর চেষ্টা ঠিকই করেছে। পুলিশের প্রচলিত গল্প বানানো প্রক্রিয়ায় ‘নারী’ থাকলে কাজটা অনেক সহজ হয়ে যায়। পুলিশ মুখরোচক কিছু তথ্য দেয়, অনুগত কিছু সংবাদকর্মী সেটা লেখে। কিছু মানুষ এক ধরনের ‘অশ্লীল বিনোদন’ খুঁজে পায়। যেসব কাগজে এসব মুখরোচক গল্প ছাপা হয় তারা নাকি অনেক বড় সাংবাদিক, সম্পাদক!
পুলিশের কাজ যে গল্প বানানো নয় সেটা তারা ভুলে যায়, এই সাংবাদিক-সম্পাদকরাও ভুলে যায়।
১২. এক্ষেত্রে পুলিশের গল্প বানানোয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বাধ সেধেছে। ধর্ষণ বা অন্য কোনো আলামত রুনির শরীরে পাওয়া যায়নি। কে আগে খুন হয়েছে সেটাও ময়নাতদন্তের রিপোর্টে স্পষ্ট করা যায়নি। ধর্ষণ বা অন্য কোনো আলামত থাকলে  পুলিশের জন্যে গল্প বানানো সহজ হতো। কিন্তু এই সহজ কাজটি করতে না পারলেও তদন্তের অন্য কোনো অগ্রগতি না হলেও রুনিকে আগে খুন করা হয়েছে, সে কথা পুলিশ ঠিকই বলেছে। কিসের ভিত্তিতে বলল? তদন্তের প্রেক্ষিতে তাদের ধারণা হয়েছে। ১০০% নিশ্চিত হয়ে বলছে পুলিশ এ কথা? নিশ্চয় না। ১০০% নিশ্চিত না হয়ে সন্দেহভাজনকে ধরা হবে না, কে আগে খুন হয়েছে সেটা বলা যাবে? এটা কি স্ববিরোধী অবস্থান নয়?
১৩. নিছকই একটি চুরি- গল্প বানানোর ঝোঁক এদিকেও আছে। ঘটনার পর জানা গেল মূল্যবান কিছু খোয়া যায়নি। কয়েকদিন পর জানা যাচ্ছে ল্যাপটপ, স্বর্ণালঙ্কার, বিদেশি মুদ্রা খোয়া গেছে। অর্থাৎ গ্রিল কেটে চোর এসে, হত্যা করে এসব নিয়ে গেছে! পেশাদার চোর বারান্দার গ্রিল কাটা জায়গা দিয়ে ঢোকানোও হচ্ছে!! এসব কিসের আলামাত? সঠিক তদন্তের?
১৪. কিন্তু এতেও গল্পের ভিত্তি মজবুত হচ্ছে না। চোর কি অন্য কোনো ঘরে ঢুকত না? ঘরে মূল্যবান আরো যা যা ছিল তা নিত না? খুনের ধরন বলছে ২৩টি ছুড়িকাঘাতে খতবিক্ষত হয়েছে সাগরের দেহ। হাত-পা বাঁধা। চুরি করতে এলে এমন হত্যাকাণ্ড? গল্প বানানোর ক্ষেত্রে পুলিশের মাথায়ও এই বিবেচনাগুলো কাজ করছে। তাই হয়ত গল্প বানানোতে সুবিধা হচ্ছে না।
পুলিশের যে গল্প বানানোর অবিশ্বাস্য প্রতিভা, তা দিয়ে তারা আরো অভিনব গল্প তৈরির চেষ্টা নিশ্চয়ই করবে।
১৫. পেশাগতভাবে সাগর জ্বালানি, খনিজ-সম্পদ নিয়ে কাজ করেছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়েও কাজ করেছে। তারপর জার্মানি চলে গেছে। ফিরে এসে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন। জার্মানি যাবার আগে এবং ফিরে আসার পরে সাগর সাংবাদিকতায় এমন কোনো কাজ করেননি, যার ফলে হত্যার শিকার হতে পারেন। রুনিও এমন কোনো রিপোর্ট করেননি যার ফলে তাকে হত্যা করা হতে পারে।
একজন সংবাদকর্মী হিসেবে সাদা চোখে আমাদের কাছে বিষয়টি এমনই। তাই হত্যাকা-ের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করা বেশ জটিল, কঠিন। তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি তৎপরতা, মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য হতাশা শুধু বাড়ছেই।
১৬. সাগর-রুনির সন্তান মেঘের দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রশংসা তিনি পেতেই পারেন। মেঘের দায়িত্ব নেয়ার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ সঠিক তদন্ত। হত্যা রহস্য উদঘাটন। অসংলগ্ন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা প্রধানমন্ত্রীর এই মমতাময়ী উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলছে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কি বিষয়টি বুঝতে পারছেন?

আমরা যে সমাজে বাস করি, সেই সমাজে লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার সুশীল সমাজ, রাজনীতিক, পুলিশ, সামরিক বাহিনী সর্বত্রই অসততা।
কারো প্রতি কারো শ্রদ্ধা নেই।
সবকিছুর পরেও আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের মানুষ বিশ্বাস করে পুলিশ চাইলে প্রকৃত রহস্য অবশ্যই উন্মোচন করতে পারে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের পুলিশের সেই দক্ষতা এবং যোগ্যতা আছে। প্রশ্ন হলো পুলিশ আন্তরিকভাবে সঠিক পথে তদন্ত করতে চায় কি না? পুলিশকে সঠিক পথে থেকে তদন্ত করতে দেয়া হয় কি না, হচ্ছে কি না? প্রথমদিনে মনে হয়েছিল সব কিছু ঠিকই আছে। সঠিকভাবেই তদন্ত হচ্ছে। দ্বিতীয় দিন থেকেই শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তদন্ত সঠিকভাবে হচ্ছে নাÑ মানুষ এখন প্রায় এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, পুলিশের নানা রকম বক্তব্যের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
পুলিশের ওপর দায় চাপানো বা সমালোচনা করা অনেক সহজ। যে কোনো ব্যর্থতার প্রেক্ষিতে অধিকাংশ সময়ে তাই করা হয়। আসলে কি প্রকৃত দায়ভার পুলিশের?
সম্ভবত না।
অসততা বা অন্য যে কোনো কারণেই হোক তদন্তে গাফিলতি পুলিশ করতে পারে। তদন্ত ভিন্ন দিকে নিয়ে যাবার চেষ্টাও করতে পারে। এ দায় পুলিশের নাÑ সেটা বলার সুযোগ নেই। কিন্তু পুরোটা পুলিশের ওপর চাপানোর সুযোগও নেই।
কারণ পুলিশ পরিচালনা পুলিশ করে না। করে রাজনৈতিক নেতৃত্ব। পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করলে দেখার দায়িত্ব, ব্যবস্থা নেয়ার দায়িত্ব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর, প্রতিমন্ত্রীর।
তারা কী সেটা করছেন বা করতে পারছেন? তাদের যোগ্যতা নিয়ে কি প্রশ্ন আছে? সাগর-রুনির হত্যা মামলার তদন্তের বিষয়টি নাকি সরাসরি দেখছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী। তদন্তের এই এলোমেলো অবস্থার দায় তাহলে কার?
আরো একটি প্রশ্নের মধ্যেই কি আটকে গেল সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড?

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: