অর্থনীতি

বিদ্যমান অবকাঠামো ট্রানজিটের উপযুক্ত নয়: মুহিত

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৫ – দেশের বিদ্যমান অবকাঠামো ট্রানজিটের জন্য উপযুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

তিনি বলেছেন, “আঞ্চলিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়াতে ট্রানজিট দরকার। আর ট্রানজিটের জন্য দরকার অবকাঠামো উন্নয়ন।”

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে শনিবার রাজধানীতে এক সংলাপের উদ্বোধনে এ কথা বলেন মুহিত। সেখানে ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার সঞ্জয় ভট্টাচার্যও উপস্থিত ছিলেন।

ট্রানজিট নিয়ে দুদেশের মধ্যে কোনো চুক্তি এখন পর্যন্ত হয়নি। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ভারতকে ট্রানজিট দেওয়ার বিরুদ্ধে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “১৯৪৭ সাল থেকেই ভারতের সঙ্গে এ ভূ-খণ্ডের তা আছে।”

“মাঝখানে ১৯৬৫ সালে সংঘটিত [ভারত-পাকিস্তান] যুদ্ধের কারণে কিছুদিন বিরতি ছিল” মন্তব্য করে মুহিত বলেন, “তবে সব সময়ই চেষ্টা করা হয়েছে এর সর্বোচ্চ সুবিধা কীভাবে পাওয়া যায়। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই সর্বনিু সুবিধা ব্যবহার করা গেছে।”

“গতানুগতিকভাবে চিন্তা করলে হবে না। কারণ, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে অবৈধ পণ্য আসা-যাওয়া হচ্ছে কি-না যাচাই করা খুবই সহজ।”

অবকাঠামো উন্নয়নকে ‘জরুরি’ অভিহিত করে মুহিত বলেন, “দুই দেশের মানসিকতারও পরিবর্তন প্রয়োজন।”

“তবে সবার আগে দরকার রাজনৈতিক সদিচ্ছা।”

গত ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের ঢাকা সফরে দুই দেশের মধ্যে ট্রানজিটের সম্মতিপত্র বিনিময়ের কথা থাকলেও তা হয়নি।

অবশ্য ৭ সেপ্টেম্বর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর যৌথ ঘোষণায় বলা হয়, ট্রানজিট বাস্তবায়নে সব আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত শেষ করতে দুই দেশের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোয় পণ্য পরিবহনের সুবিধায় দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট সুবিধা চেয়ে আসছে দেশটি।

ট্রানজিট না হলেও ইতিমধ্যে ভারতের কলকাতা থেকে ট্রান্সশিপমেন্টের প্রথম বাণিজ্যিক চালান গত ২৭ সেপ্টেম্বর আশুগঞ্জ-আখাউড়া হয়ে ভারতের ত্রিপুরায় গেছে।

আঞ্চলিক বাণিজ্যে হতাশা

‘কো-অপারেটিভ ডেভেলপমেন্ট, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন সাউথ অ্যাণ্ড সেন্ট্রাল এশিয়া: স্ট্রেনদেনিং ইন্ডিয়া বাংলাদেশ-রিলেশন্স’ শিরোনামের সংলাপে অর্থমন্ত্রী আঞ্চলিক বাণিজ্য নিয়ে হতাশাও প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “বিশ্বের অন্য জায়গায় অনেক বেশি হলেও আমাদের আঞ্চলিক বাণিজ্য এখনও পাঁচ শতাংশেই আটকে রয়েছে।”

আঞ্চলিক উন্নয়নে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও জ্বালানি বিষয়ক আলাদা বোর্ড গঠনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে মুহিত বলেন, “এটি হলে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।”

ভারপ্রাপ্ত ভারতীয় হাই কমিশনার সঞ্জয় বলেন, “১০০ কোটি ডলারের ভারতীয় ঋণে প্রতিশ্র“ত অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর কয়েকটিতে প্রণিধানযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।”

“অন্যদিকে, বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ভারতের দ্বারও খোলা। বাংলাদেশ ভারতে বিপুল রপ্তানি করতে পারে এবং এক্ষেত্রে দৃশ্যমান কোনো অশুল্ক-বাধা নেই।”

১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় যে সীমান্ত-রেখা হয় তা নতুনভাবে করার প্রয়োজন মত দিয়ে হাই কমিশনার বলেন, “কোনো বাড়ি বা গ্রামের মধ্য দিয়ে সীমান্ত-রেখা গেছে। এটা একটা সমস্যা। আলোচনার ভিত্তিতে তা নতুন করে নির্ধারণ করা যেতে পারে।”

ভারপ্রাপ্ত হাই কমিশনার বলেন, চোরাচালান, মানবপাচার ও মাফিয়া কার্যক্রম দূর করতে যৌথ টহল ও নৈশ-কারফিউ ব্যবস্থা জারি করা যেতে পারে। উভয় দেশের জন্যই তা সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ উন্নয়ন পরিষদ (বিইউপি) ও সেন্টার ফর রিসার্চ ইন রুরাল অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট (সিআরআরআইডি) আয়োজিত এ সংলাপে কো-চেয়ার ছিলেন বিইউপি চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এবং সিআরআরআইডি নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান রসপাল মালহোত্রা।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পিকেএসএফ ভবনে দুই দিনব্যাপী সংলাপ আয়োজনে সহযোগিতা দেয় ঢাকা স্কুল অব ইকোনোমিক্স (ডিএসসিই) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: