জাতীয়

ইচ্ছে করলে সেদিন সেনা অফিসারদের বাঁচানো যেতো: এরশাদ

ঢাকা, ২৬ ফেব্রুয়ারি: পিলখানা হত্যাকাণ্ডকে হৃদয়বিদারক উল্লেখ করে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান সাবেক সেনাপ্রধান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ বলেছেন, “শুধু নাম পরিবর্তন করলেই দুঃখবেদনা মুছে যায় না। সত্য উদঘাটন করুন। তাহলে তাদের আত্মা শান্তি পাবে।”

সেদিন ১২ বছরের মেয়েকেও ধর্ষণ করা হয়েছে উল্লেখ করে এরশাদ বলেন, “জনগণ এই ঘটনার প্রকৃত রহস্য জানুক। আমার বিশেষ কিছু করার নেই। সরকার নিহতদের পরিবারকে যেন দেখাশোনা করে, এই আবেদন রাখছি। তাহলে তারা সুখে থাকবে।”

২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোকদিবস ঘোষণা করার আবারো দাবি জানান সাবেক এই সেনাপ্রধান।

রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিডিআর ট্রাজেডিতে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে জাতীয় পার্টি এ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার।

এরশাদ বলেন, “কতো আকুতি তারা করেছেন এসএমএস পাঠিয়ে, কিন্তু আমরা তাদের বাঁচাতে পারিনি। ইচ্ছা করলে বাঁচানো যেতো। কিন্তু কেন ইচ্ছা করা হয়নি সেটি জানি না। সে সত্য একদিন জাতি জানবে। ইন্টারনেটের যুগে কিছু লুকিয়ে রাখা যায় না। কম্পিউটারের স্ক্রিন খুললেই সব ভেসে ওঠে।”

তিনি বলেন, “এরা আমার সন্তান ছিলো। একসঙ্গে কাজ করে তাদের গড়েছি। আমার ব্যথাটা অনেক গভীর। চোখ বুঝলেই আমার সামনে তাদের চেহারা ভেসে উঠে। সন্তান হারানোর ব্যথা অনেক গভীর। সেদিন সেনাবাহিনীর প্রধান আমি থাকলে একজনকেও মরতে দিতাম না। হতাশাগ্রস্ত হয়ে শুধু দাড়িয়ে দেখলাম সেদিন।’’

সেনাবাহিনীকে আগেও ধ্বংসের চেষ্টা করা হয়েছে জানিয়ে এরশাদ বলেন, “সব ষড়যন্ত্রকে ছিন্ন-ভিন্ন করে আজ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে সেনাবাহিনী।”

রহস্য উদঘাটন করার প্রয়োজন আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “সত্য উদঘাটিত হলে তারা সাহস নিয়ে আগের মতো কাজ করতে উৎসাহিত হবে। এতে দেশ, জাতি ও সেনাবাহিনীর মঙ্গল হবে।”

এমন শোকের দিন বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জাতির সামনে আর আসেনি বলেও জানান এরশাদ। এই দিবসটিকে জাতীয় শোকদিবস হিসেবে ঘোষণার দাবি করেন তিনি।

এরশাদ বলেন, “আমাদের দেশে এমন কিছু কাজ আছে যা সব দল মিলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা যায়। সবাই মিলে আলোচনার মাধ্যমে সেই রহস্য উন্মোচন করা যেতো। ”

অনুষ্ঠানের সভাপতি পার্টির মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেন, “সেদিন অসহায়ের মতো এরশাদ বিডিআর ক্যাম্পের সামনে হাঁটছেন। কিন্তু কিছুই করার ছিলো না। সেনাবাহিনীদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ ছিনিয়ে আনা হয়েছে। কিন্তু সেদিন (বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দিন) তাদের ডাক কেউ শুনেনি। সৈনিকদের নির্মম এই ঘটনার সত্য একদিন উদঘাটন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

পার্টির প্রেসিডিয়াম মেম্বার কাজী জাফর আহমদ বলেন, ‘‘এটি একটি নিষ্ঠুর ঘটনা। বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের এখনো রহস্য উদঘাটন হয়নি। এটি ছিলো নীল নকশার রহস্য। পরবর্তী ঘটনা প্রমাণ করে সেনাবাহিনী এখনো অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। যেভাবেই সত্য ঘটনা চাপা পড়ুক ঐতিহাসিকগণ গবেষণার মাধ্যমে সেটি প্রকাশ করেন।’’

অনুষ্ঠানে আরা বক্তব্য রাখেন, প্রেসিডিয়াম আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, প্রেসিডিয়াম মেম্বার ড. ফজলে রাব্বি চৌধুরী, অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন খান, গোলাম হাবিব দুলাল বলেন, কাজী মাহমুদ হাসান, জিয়া উদ্দিন আহমেদ, মশিউর রহমান রানা, এসএম ফয়সল চিশতি, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মীর আবদুস সবুর আসুদ, ভাইস চেয়ারম্যান এটিএম গোলাম মাওলা চৌধুরী, ইকবাল হোসেন রাজু, গোলাম মোহাম্মদ রাজূ প্রমুখ।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: