আন্তর্জাতিক

ক্ষমতার আগুনে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া!

ফজলুল বারী

শাসকদল লেবার পার্টির ক্ষমতার দ্বন্দ্বের আগুনে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া। প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের কর্তৃ্ত্ব চ্যালেঞ্জ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ ছেড়েছেন দলের জনপ্রিয় নেতা কেভিন রাড। এরপর থেকে শাসকদলের অভ্যন্তরে চলতি অগ্নুৎপাতের শুরু।

সোমবার রাজধানী ক্যানবেরার ফেডারেল পার্লামেন্ট ভবনে লেবার পার্টির নীতিনির্ধারনী ককাসের ভোটাভুটিতে এর ফয়সালা হবে।

কিন্তু রাজনীতির এই আগুন নিয়ে রাজপথের কোথাও কোনও মিছিল-মিটিং বা প্রতিক্রিয়া নেই। কেউ রাস্তাঘাটের কোথাও বা কোনকিছুতে আগুন ধরিয়ে দেয়নি। বা এদেশে এমন কিছু অকল্পনীয়ও। যা কিছু সব চলছে মিডিয়ায়। টিভি স্ক্রিনে এবং পত্রিকার পাতায়। চব্বিশ ঘণ্টার নিউজ চ্যানেল, টকশো এবং জনমত জরিপে।

এর মাঝে নানা হিসাবে এটা স্পষ্ট, সোমবারের ভোটাভুটিতে প্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ডের ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কোনও আশঙ্কা নেই। কারণ লেবার পার্টির ককাসে তার পক্ষে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। কিন্তু জনমত জরিপগুলো জুলিয়ার বিপক্ষে।

সবগুলো জরিপে দেখানো হয়েছে ২০১৩ সালের নির্বাচনে জুলিয়া নয়, কেবিন রাডের নেতৃত্বেই লেবার পার্টি তুলনামূলক ভালো প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবে। এসব জরিপে দেখানো হচ্ছে ২৬ শতাংশ বা এরও কম জনমত লেবারের নেত্রী জুলিয়ার হিসাবে জুলিয়ার পক্ষে। আর কেভিন রাডের পক্ষে ৫৬ শতাংশ বা এরও বেশি জনমত।

উল্লেখ্য, অর্থনৈতিক নানা কর্মসূচিকে অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতাসীন দলটি জনমত জরিপগুলোতে এমনিতে পিছিয়ে আছে। প্রায় সব জরিপের বার্তাটি হচ্ছে এখনই দেশে নির্বাচন হলে ক্ষমতায় আসবে টনি অ্যাবোটের নেতৃ্ত্বাধীন লিবারেল কোয়ালিশন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের নির্বাচনে কেবিন রাডের নেতৃ্ত্বেই ক্ষমতায় ফিরে আসে লেবার পার্টি। কিন্তু ২০১০ সালে দলীয় এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাডকে ক্ষমতাচ্যুত করে তার উপপ্রধানমন্ত্রী জুলিয়া গিলার্ড দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর অনুষ্ঠিত আগাম একটি নির্বাচনে অস্ট্রেলিয়ান গ্রিন ও স্বতন্ত্র তিন এমপির সমর্থনে ক্ষমতা ধরে রাখতে পারলেও দেশে মূলত একটি ঝুলন্ত সংসদ বহাল আছে।

জুলিয়ার নয়া কেবিনেটে কেবিন রাডকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী করা হলেও দু’জনের ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রায়ই মিডিয়ার মুখরোচক খবর হয়ে আসছিল। সর্বশেষ দলীয় বৈঠকে রাগান্বিত ক্রন্দনরত রাডের একটি ভিডিও ক্লিপিস মিডিয়ায় ফাঁস হলে এর দায় জুলিয়া শিবিরের ওপরই গিয়ে পড়ে।

এরপর ওয়াশিংটন সফররত কেবিন রাড সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ এবং জুলিয়ার নেতৃ্ত্বকে চ্যালেঞ্জ করে বলেন, তার (জুলিয়া) নেতৃ্ত্বে দল কোনও অবস্থাতে ২০১৩ সালের নির্বাচনে টনি অ্যাবোটকে হারাতে পারবে না। দলীয় নেতাদের চরিত্রহননে জুলিয়ার বিরুদ্ধে বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ তোলেন কেভিন রাড।

এরপরই জুলিয়া লেবার পার্টির ককাসের মাধ্যমে সোমবার নেতৃ্ত্বের প্রশ্নে ভোটাভুটির ঘোষণা দেন।

অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতার অন্দরমহলের খবর যারা রাখেন, তারা জানেন সোমবারের দলীয় ভোটাভুটিতে জুলিয়া গিলার্ড এমনিতে টিকে যাবেন। কারণ ককাসে তার পক্ষে সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। কিন্তু এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টির ভবিষ্যত ভালো করেই যে পুড়ছে তাতে কারও মনে কোনও সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে ক্ষমতাসীন দলের সংসদ নেতাসহ একাধিক মন্ত্রী প্রকাশ্যে কেভিন রাডের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে কয়েকজন মন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ভোটাভুটিতে কেভিন রাড জিতলে তারা তার অধীনে কাজ করবেন না। তাই বিশ্লেষকরা মনে করছেন সোমবারের দলীয় ভোটাভুটির মাধ্যমেও শাসকদলের অভ্যন্তরিণ সঙ্কট মিটবে না।

এমনিতে অস্ট্রেলিয়ার বর্তমান জুলিয়া গিলার্ডের সরকার অবস্থান করছে স্মরণকালের মধ্যে জনপ্রিয়তার তলানিতে। এর সঙ্গে শাসকদলের ক্ষমতার দ্বন্দ্বে আগামী নির্বাচনে বিরোধীদলের নেতা টনি অ্যাবোটের ক্ষমতারোহন আরও সহজ হয়ে যাচ্ছে। সৃষ্ট পরিস্থিতিতে এখনি আগাম নির্বাচনের দাবি জোরোসোরে তুলে ধরা শুরু করেছেন, অস্ট্রলিয়ার সম্ভাব্য পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী, চলতি বিরোধী কোয়ালিশনের নেতা টনি অ্যাবোট।

ফজলুল বারী: সিডনিপ্রবাসী সাংবাদিক     

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: