আন্তর্জাতিক

পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় সব মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে নেয়া হলো ন্যাটো সেনাদের

অনলাইন ডেস্ক: ন্যাটোর একটি ঘাঁটিতে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে আফগানিস্তান। প্রতিবাদে সেখানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্নেল এবং একজন মেজরকে গুলি করে হত্যা করার পর আতঙ্ক দেখা দিয়েছে সর্বত্র। এরই ফলে গতকাল আফগানিস্তানের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ন্যাটোর যেসব সেনা বা কর্মকর্তা নিয়োজিত ছিলেন তাদেরকে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। ওদিকে তালেবানরা শনিবারের ওই দুই সেনা হত্যার দায় স্বীকার করে বলেছে, তারা পবিত্র কোরআন পোড়ানোর বদলা নিয়েছে। গতকাল এ বিষয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, শনিবার আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সন্ত্রাসীরা মার্কিন ওই দুই সেনা কর্মকর্তাকে পিছন থেকে মাথায় গুলি করে হত্যা করে। এ অবস্থার পর গতকাল আফগানিস্তানের সরকারি ভবনগুলোতে নিয়োজিত সব মার্কিন ও আন্তর্জাতিক কর্মকর্তা বা উপদেষ্টাদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে। তবে ডেইলি মেইল লিখেছে, শনিবার নিহত মার্কিন ওই দুই কর্মকর্তার নাম প্রকাশ করা হয়নি। তবে ন্যাটো সঙ্গে সঙ্গে একটি বিবৃতি দিয়ে তাদের নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে। ন্যাটো মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিমি কামিং বলেন, প্রাথমিক রিপোর্টে বোঝা যাচ্ছে ঘাতকরা পশ্চিমা নয়। এ বিষয়ে তিনি আর কোন তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। ওদিকে তালেবান মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ওই দুই সেনা কর্মকর্তাকে হত্যা করেছে আবদুর রহমান নামে এক বিদ্রোহী। তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তাকে প্রবেশে সহায়তা করেছে ওই মন্ত্রণালয়ের কিছু লোক। জাবিউল্লাহ বলেন, এই হত্যা পবিত্র কোরআন পোড়ানোর বদলা। গুলি করার পর আবদুর রহমান আমাদের টেলিফোনে বলেছেন, ৪ মার্কিন কর্মকর্তাকে খুন করার মতো সামর্থ্য তার ছিল। ওই দুই কর্মকর্তাকে হত্যার পর চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। গতকাল এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ঘাতককে আটক করতে পারেনি আফগান পুলিশ। ওদিকে এ ঘটনায় আফগানিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জড়িত বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ ধরনের হামলাকে কাপুরুষোচিত বলে মন্তব্য করেছেন আফগানিস্তানে নিয়োজিত শীর্ষ মার্কিন সেনা কর্মকর্তা জেনারেল জন অ্যালেন। ওদিকে পবিত্র কোরআন পোড়ানোর ঘটনায় এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। ক্ষমা চেয়েছেন জেনারেল জন অ্যালেন। আর আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই দেশবাসীকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু কারো আহ্বানে শান্ত হচ্ছে না উত্তেজিত জনতা। গতকালও সেখানে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। মঙ্গলবার বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে সেখানে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে কমপক্ষে ২৮।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: