আন্তর্জাতিক

৫ লক্ষ লোকের বিনা তল্লাশীতে ব্রিটেনে প্রবেশ

নজরুল ইসলাম,লণ্ডন: অবৈধদের ধরপাকড় ও ইমিগ্রেশন বিষয়ে নিয়ন্ত্রনা আরোপের লক্ষ্যে বর্তমান ইউকে বর্ডার এজেন্সিকে দুই ভাগে ভাগ করার ঘোষণা দিয়েছেন হোম সেক্রেটারী তেরেসা মে। দুইভাগের একভাগের নাম হবে ইউকে বর্ডার ফোর্স। এই বর্ডার ফোর্সের দায়িত্ব হবে ধরপাকড় এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ন্ত্রন করা। আর আরেক ভাগ শুধুমাত্র ইমিগ্রেশন বিষয় দেখা শুনা করবে। আগামী মার্চ মাসেই বর্ডার ফোর্সের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেবেন উইলটশেয়ারের চীফ কনস্টেবল ব্রায়ান মুর। ইউকে বর্ডার এজেন্সির সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানী রিপোর্টের ফলাফলে দেখা গেছে প্রায় ৫ লাখ ইউরোপীয়ান ট্রেভেলার কোন ধরনের বর্ডার চেক ছাড়াই ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে এবং এতে করে বর্ডার এজেন্সিতে অনিয়ম ও বিশৃংখলা পরিলক্ষিত হয়েছে।

সরকার তদনত্দে বলা হয় লো রিক্স দেশের স্টুডেন্টরা বিনা এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সে ব্রিটেনে প্রবেশ করেছে, সিকিউরিটি চেক বাতিল করা হয়েছে সময় সময়ে, স্বল্প সংখ্যক বর্ডার স্টাফ ও অধিক সংখ্যক অভিগামীদের কারণে এই বিশৃংখলা সৃষ্টি হয়েছে বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়। এরই ভিত্তিতে হোম সেক্রেটারী নতুন বোডর্ার ফোর্স গঠনের ঘোষণা দেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন ফোর্স এ বিষয়ে কিছুটা শৃংখলা ফিরিয়ে আনবে। ইউকেবিএ’র চিফ ইন্সপেক্টর জন ভাইন পরিচালিত তদনত্দে দেখা যায়, উপর মহলের নির্দেশ ছাড়াই সময় সময়ে সিকিউরিটি চেক বন্ধ রাখা হয়েছে। এমনকি মিলিয়ন পাউন্ড ব্যায়ে কেনা টেকনোলজিও ব্যবহার করা হয় নি। মিনিস্টারের কাছে দেয়া এবং মিনিস্টারের কাছ থেকে পাওয়া কাগজপত্রে অস্পষ্টতা পাওয়া গেছে। মন্ত্রী এবং সিনিয়র স্টাফদের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়টি ছিল খুবই নিম্ন মানের। সিদ্ধানত্দগুলোতেও ছিল অস্পষ্টতা। অনেক সময় মন্ত্রীদের নির্দেশনা স্টাফরা যথাযথভাবে পালন করেননি। কার কি দায়িত্ব এ ব্যাপারেও সুস্পষ্ট নির্দেশনার অভাব ছিল। মি. ভাইরেন রিপোর্টে আরো বলা হয়, ২০০৭ থেকে এ পর্যনত্দ কমপক্ষে ৫ লাখ ইউরোপীয়ান নাগরিক কোন ধরনের চেকিং চাড়াই বৃটেনে প্রবেশ করেছেন। হিথ্রো বিমান বন্দরে উন্নত দেশের ছাত্ররা বিনা এন্ট্রি ক্লিয়ারেন্সে প্রবেশ করেছে। মন্ত্রীরা এই ধরনের কোন অনুমোদন দেননি এবং মি. ভাইনের ভাষায় তা তা বেআইনী ও বৈষম্যমূলক ছিল। রিপোর্টে বলা হয় জুন ২০১০ থেকে নভেম্বর ২০১১ এর মধ্যে ইউরোপের বাইরের দেশগুলোর জন্য কমপক্ষে ৪৮২ বার ফিঙ্গার প্রিন্ট রাখা বন্ধ করা হয়। এর মধ্যে হিথ্রোতেই ৪৬৩ বার এই ঘটনা ঘটেছে। রিপোর্টে আরো বলা হয় ২০১১ সালের জানুয়ারী থেকে জুন পর্যনত্দ কমপক্ষে ১৪হাজার ৮১২ বার বায়োমেট্রিক চিপ রির্ডিং বন্ধ রাখা হয়। ইউকেবিএ এ বিষয়ে কোন ধরনের ব্যাখ্যা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয় ইমিগ্রেশন মিনিস্টার এবং সিকিউরিটি মিনিস্টার কেবলমাত্র গত গ্রীস্মে পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফিঙ্গার প্রিন্ট বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু হোম সেক্রেটারী বিষয়টি বন্ধ করে দেন। রিপোর্টে আরো বলা হয় এটা দেশের নিরাপত্তার জন্য কত ঝুকিপূর্ণ তা নির্ধারণ করা খুবই কঠিন। ইউকে বিএ অঙ্গীকার করেছে এইসব পাইলট প্রকল্পের রিপোর্ট প্রতি সপ্তাহে জমা দেবে। কিন্তু বাসত্দবে মন্ত্রী কেবল মাত্র ৩টি আপডেটের পর আর কোন আপডেট পাননি। এতে আরো বলা হয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত নভেম্বরে পাইলট প্রকল্প কখনই আলোর মুখ দেখেনি। শ্যাডো হোম সেক্রেটারী ভেটি কোপার বলেছেন, এখন সময় হয়েছে কোন লুকোচুরি না খেলে যা ঘটেছে তা প্রকাশ করার। তিনি বলেন, সরকারের এসব নীতির কারণে যথাযথভাবে বর্ডারে কি হচ্ছে তা মনিটর করা সম্ভব হচ্ছে না।
Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: