জাতীয়

হুমকির মুখে বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য

ঢাকা: বাংলাদেশের জীববৈচিত্র্য আজ অনেকটাই হুমকির মুখে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের নেই কোনো উদ্যোগ। এর ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে কারো মাথাব্যথাও নেই। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়ার (ইসিএ)

রক্ষণাবেক্ষণ কাজ থমকে আছে। সরকারিভাবে এগুলো রক্ষার কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেই।

এসব এলাকার জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণসহ পরিবেশের জন্য হুমকি হয় এমন কার্যক্রম আইন করে নিষিদ্ধ করা হলেও তা মানা হচ্ছে না। যে যেভাবে পারছে দখল ও দূষণ করছে ইসিএ ঘোষিত এলাকাগুলো। ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে পরিবেশ অধিদফতর ঘোষিত দেশের ১২টি পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা।

ইসিএ নিয়ে চিন্তিত খোদ পরিবেশ অধিদফতরও। ১৯৯৭ সালের এক জরিপ অনুযায়ী সেন্টমার্টিনের প্রতিদিনের ধারণ ক্ষমতা ছয় থেকে ৮০০ মানুষ। প্রকৃতপক্ষে এখানে নিয়মিত বাস করা হাজারো মানুষের বাইরে রয়েছে প্রতিদিনের তিন থেকে চার হাজার পর্যটকের আনাগোনা। ফলে ঝুঁকি কমছে না এ স্থানটির।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্র জানায়, সম্প্রতি ঢাকার আশপাশের চারটি নদীকে ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষণা করা হলেও সীমানা নির্ধারণ না হওয়ায় নদীগুলো নিয়ে কাজ শুরু করতে পারেনি পরিবেশ অধিদফতর। ইকোলজিক্যাল ক্রিটিক্যাল এরিয়া নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোও।

তিন ধাপে দেশের বারটি স্থানকে ইসিএ ঘোষণা করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন-‘৯৫-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী এগুলোকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে ১৯৯৯ সালের এপ্রিলে ঘোষণা করা হয় সাতটি স্থানের নাম। এগুলো হচ্ছে সুন্দরবন (রিজার্ভ ফরেস্টের চারদিকে ১০ কিলোমিটার), কক্সবাজার-টেকনাফ সমুদ্রসৈকত, সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া, হাকালুকি হাওর, টাংগুয়ার হাওর, মারজাত বাঁওড়।

২০০১ নভেম্বরে রাজধানীর গুলশান-বারিধারা লেককে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা করা হয়। সর্বশেষ গত বছরের অক্টোবরে রাজধানীর বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা_ এ চার নদীকে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ ব্যাপারে সতর্ক করে পরিবেশ অধিদফতর প্রজ্ঞাপনও জারি করেছে, তবে তাতে কাজ হচ্ছে না। সর্বশেষ ইসিএ হিসেবে ঘোষণা করা রাজধানীর আশপাশের চার নদীতেই প্রতিদিন নির্গমন হচ্ছে নানা বর্জ্য। অব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার অভাবে গুলশান-বারিধারা লেকের অবস্থাও সংকটময়।

এভাবে চলতে থাকলে পরিবেশের ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা। তারা মনে করেন, সরকার ও যথাযথ কর্তৃপক্ষ আন্তরিক না হলে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকাগুলো সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে না। এ ব্যাপারে প্রত্যেকেই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করা উচিত বলেও মনে করেন তারা।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: