অন্যান্য খবর

ইউনুসের নাম প্রস্তাব অন্য এক কৌশল: দি ইকোনমিস্ট

ঢাকা: নোবেল বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনুসকে বিশ্বব্যাংকের চেয়ারম্যন করতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবকে শুধুই তামাশা নয়, এটা অন্য এক কৌশলের কেবল শুরু। এমন খবরই দিয়েছেন, প্রভাবশালী ইংরেজী দৈনিক দি ইকোনমিস্ট।

পত্রিকাটিতে প্রকাশিত  এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে,আওয়ামী লীগ সব সময় নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে সিদ্ধহস্ত। এ ধারণা অনেক দিন অক্ষতই ছিল। এখনো কি সেই নীতি কি নেই? বিশ্বব্যাংকের প্রধান পদে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ও ক্ষুদ্রঋণের প্রবক্তা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নাম প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন ঔদার্যপূর্ণ প্রস্তাব সেই রাজনীতিকের কাছ থেকেই এল, যিনি কিনা ইউনূসকে তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠিত গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছেন এবং সর্বশেষ অভিযোগ তুলেছেন, ইউনূসের কারণেই বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু প্রকল্পের টাকা আটকে দিয়েছে। শেখ হাসিনার এ পরিবর্তনে বাংলাদেশের মানুষ বিস্মিত। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে প্রেক্ষিত্রে বাংলাদেশের একটি পত্রিকার পাঠকের দেয়া মতামত তুলে ধরে বলা হয়-ডেইলি স্টার পত্রিকার এক পাঠক মন্তব্য করেছেন,‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,আপনি আন্তরিক হতে পারেন না!আরেক পাঠক ব্যঙ্গ করে বলেছেন, সব রাজনীতিবিদ প্রধানমন্ত্রীর মতো বিজ্ঞ হলে বাংলাদেশ শিগগির সুইজারল্যান্ড হয়ে যাবে। বাংলাদেশিদের মধ্যে এমন লোক নেহায়েত হাতেগোনা, যাঁরা বিশ্বাস করেন, বিশ্বব্যাংকের প্রধান হওয়ার জন্য ড. ইউনূস সত্যিই চেষ্টা করবেন। তবে বেশির ভাগ মানুষই এ কথা ভেবে বিস্মিত যে ড. ইউনূসের সুনামহানির এত জোর চেষ্টা এবং তাঁকে উৎখাতের পর এখন প্রধানমন্ত্রী নিজেই কেন আবার তাঁর জন্য সুপারিশ করছেন। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা এমন একজন নারী, যিনি কখনো পিছু হটেন না। হাসিনার অনমনীয়তা তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্‌দ্বী খালেদা জিয়ার মতোই প্রসিদ্ধ। এ জন্য অনেক মূল্যও দিতে হয়। যেমন রাজধানীর কাছে একটি নতুন বিমানবন্দর তৈরির পরিকল্পনা শেষ পর্যন্ত তিনি ত্যাগ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তার আগে অনেক বড় বিক্ষোভ-রক্তক্ষয় হয়ে গেছে।

দি ইকোনমিস্ট বলে, ড. ইউনূসের সঙ্গে সরকারের আচরণ নিয়ে পশ্চিমা সরকারগুলো,বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র অনেক দিন ধরেই অসন্তুষ্ট। ক্ষুদ্রঋণের এ প্রবক্তার অনেক সুহৃদ সেখানে আছেন,যার মধ্যে আছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও। মার্কিন কর্মকর্তারা বারবার এ কথা বলে সতর্ক করে দিয়েছেন  যে ড.ইউনূসের সঙ্গে দুর্ব্যবহার দুই দেশের সম্পর্কের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।
ঐ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়,বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা নড়বড়ে,তাদের মুদ্রা টাকার অবস্থা এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেহালে এবং বৈদেশিক মুদ্রার যে রিজার্ভ রয়েছে তা তিন মাসের রপ্তানি-ব্যয় মেটাতে গেলেই উধাও হয়ে যাবে। অপরিকল্পিত জ্বালানিনীতির কারণে বাজেট ঘাটতি পূরণে অর্থের প্রয়োজন, আমদানি করা জ্বালানি তেলেই চলছে বিদ্যুৎ কেন্দ্র। বাংলাদেশ সরকার দাবি করছে, পদ্মা সেতুতে অর্থ বিনিয়োগ করতে আগ্রহ দেখাচ্ছে চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিনিয়োগকারীরা। অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এটা হবে মিয়ানমারের পদ্ধতি বা বলা  যেতে পারে কম্বোডিয়ার মতো। শেখ হাসিনা সম্ভবত অন্যান্য দাতা দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছেন। কাজেই বিশ্বব্যাংকের প্রধান পদে ড. ইউনূসের নাম প্রস্তাব শুধুই তামাশা নয়, এটা অন্য এক কৌশলের কেবল শুরু।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: