জাতীয়

সাগর-রুনি হত্যা: সরকারের পদক্ষেপে সন্তুষ্ট আদালত

ঢাকা, ফেব্রুয়ারি ২৮: সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে সরকারের পদক্ষেপ যথাযথ বলে মনে করেছে উচ্চ আদালত।

খুনিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের ব্যর্থতা নিয়ে একটি রিট আবেদনে মঙ্গলবার আদালত বলেছে, হত্যাকাণ্ড তদন্তে ভুল বা অবহেলা দেখা যায়নি। কিছু সংখ্যক রাজনীতিক তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন।

ওই রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তথ্যসচিব ও পুলিশের প্রতি দুটি নির্দেশও দিয়েছে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী ও বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেনের হাই কোর্ট বেঞ্চ।

তদন্তে সুনির্দিষ্ট অগ্রগতি ছাড়া প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে কোনো বক্তব্য না দিতে পুলিশকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে মনগড়া সংবাদ প্রকাশ না করতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে তথ্য সচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের কারণ উদঘাটন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় খুনিদেরকে বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে আদালত।

স্বরাষ্ট্র সচিব, তথ্য সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‌্যাবের মহাপরিচালক, ডিবির উপকমিশনার (দক্ষিণ) ও শেরেবাংলা থানার ওসিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর রাজাবাজারের বাসায় খুন হন মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর এবং এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রুনি।

১৬ দিনেও হত্যাকারী গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আসছে সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সংগঠন ও রাজনৈতিক দল। পুলিশ সর্বশেষ রোববার বলেছে, হত্যাকাণ্ডের কারণ ‘মোটামুটি’ নিশ্চিত হয়েছে তারা।

আদালত বলেছে, “দুই সাংবাদিকের হত্যার ঘটনায় সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে। এই তদন্তে কোন ধরনের ভুল বা অবহেলা আমরা দেখিনি। একাধিক তদন্ত সংস্থা এই ঘটনার পুরো সত্য বের করে আনতে কাজ করছে।”

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর তদারকির কথা তুলে ধরেছে আদালত।

“কিন্তু আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, কিছু সংখ্যক রাজনীতিক তদন্তকে বাধাগ্রস্ত করতে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছেন। গতকালই লালমনিরহাটে বিরোধীদলীয় নেত্রী একটি রায় দিয়েছেন যে, সরকারই খুন করেছে। এই মন্তব্যের সমালোচনা করার ভাষা আমাদের নেই,” বলেছে আদালত।

খালেদা জিয়া সোমবার লালমনিরহাটে জনসভায় বলেন, সরকারের দুর্নীতি চাপা দিতেই সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে।

বিএনপি চেয়ারপারসনের বক্তব্য ধরে আদালত বলেছে, “এর মাধ্যমে তিনি রায় দিয়ে দিয়েছেন। এই বক্তব্য তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে অবশ্যই প্রভাবিত করবে। এটা খুবই দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য। যুক্তরাজ্য বা এ ধরনের কোনো দেশে এ ধরনের মন্তব্য করলে তাকে জেলে যেতে হত।

“ওই (হত্যাকাণ্ড) ঘটনায় মামলা হয়েছে, তাই এটা বিচারাধীন বিষয়, এ সম্পর্কে মন্তব্য আদালত অবমাননার সামিল। আইনের শাসন ও সাংবিধানিক শাসনের জন্য এটা হুমকিস্বরূপ। যারা এ ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে, নিহত সাংবাদিক দম্পতির প্রতি তাদের কোনো সহানুভূতি নেই।”

সাগর-রুনির হত্যাকাণ্ড তদন্তের বিষয়ে পুলিশের বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে নানা ধরনের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে বিভিন্ন সংবাদপত্রে।

২৭ ফেব্রুয়ারি দৈনিক আমার দেশে ‘আরেক জজ মিয়া প্রস্তুত’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। একই দিন দৈনিক যুগান্তরে ‘সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যাকাণ্ড, হত্যার মোটিভ উদঘাটনে একজন জজ মিয়া খুঁজছে পুলিশ’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আদালত বলেছে, “এটাও তদন্তকে প্রভাবিত করতে বাধ্য। আমরা বিশ্বাস করি, এটা এমন একটি পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে, যা তদন্তকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।”

সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সাংবাদিকদের মাধ্যমেই যেন প্রভাবিত না হয়, সে আশা করেছে আদালত।

সকালে আদালতে রিট আবেদনটি করে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে মনজিল মোরসেদ। আবেদনের সঙ্গে আমার দেশ ও যুগান্তরের প্রতিবেদন সংযুক্ত করে দেওয়া হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়, পুলিশ এই সাংবাদিক দম্পতির খুনিদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থ হয়েছে। তদন্ত চলাকালে পুলিশ গণমাধ্যমে নানা বক্তব্য দিচ্ছে। এছাড়া জজমিয়া সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে, যা জনগণের মধ্যে দ্বিধা সৃষ্টি করছে।

আদালতে অ্যাডভোকেট মনজিল মোরসেদ নিজেই শুনানি করেন। সরকার পক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আলতাফ হোসেন।

শুনানিতে আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন, আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নেতা অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম সুজন, অ্যাডভোকেট শ ম রেজাউল করিম, এ এম আমিন উদ্দিন এবং বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বক্তব্য রাখেন।

শুনানিতে আদালত দৈনিক ইত্তেফাকের আইন ও নির্বাচন বিষয়ক সম্পাদক সালাহউদ্দিনের বক্তব্যও শোনে।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: