খেলা

বিপিএল’র প্রথম শিরোপা ঢাকার

ঢাকা: বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শেষ হাসি হেসেছে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস। প্রথমবারের মতো আয়োজিত প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। ফাইনালে তারা ৮ উইকেটে হারিয়েছে বরিশাল বার্নার্সকে।

বরিশাল বার্নার্স ইনিংস: ১৪০/৭ (ওভার ২০)
ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস ইনিংস: ১৪৪/২ (ওভার ১৫.৪)
ফল: ঢাকা ৮ উইকেটে জয়ী

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের দ্বিতীয় বল। ব্যক্তিগত ১৫ রান আহমেদ শেহজাদের। মাশরাফি বিন মর্তুজার বলে শেহজাদ ক্যাচ তুললেও সেটি গ্ল্যাভসে নিতে পারেননি উইকেটরক্ষক ধীমান ঘোষ।

৫.৪ ওভারেও একই ভুল করেন ধীমান। এবার সাঈদ আজমলের বল মারার জন্য উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে আসেন মিথুন আলী। কিন্তু তাকে ফাঁকি দিয়ে বল ধীমানের কাছে এলেও সেটি তালুবন্দী করে মিথুনের স্ট্যাম্প ভেঙ্গে দিতে ব্যর্থ হন ঢাকার উইকেটরক্ষক।

মিরপুর ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে শুরুতেই অধিনায়ককে হতাশ করেন ফিল্ডাররা। তবে ঢাকার হাহুতাশে দমে যায়নি বরিশালের রান তুলার গতি। জীবন পেয়েই মারমুখী হয়ে উঠেন শেহজাদ। চার ও ছয় হাঁকিয়ে দিশেহারা করতে থাকেন ঢাকার বোলারদের।

বরিশালের রানের চাকা থামাতে মাশরাফি তলব করেন বিপিএলের সবেচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অলরাউন্ডার আফ্রিদিকে। অধিনায়ককে হতাশ করেননি পাকিস্তানি তারকা। ব্যক্তিগত ২৮ রানে শেহজাদকে সাজঘরে ফেরান তিনি।

শেহজাদ আউট হওয়ার পরই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে বরিশাল। ফিল মাস্টার্ডকে (৫) আজমল, মমিনুল হককে (১১) নাভিদ উল রানা, মিথুন (১) ও ফরহাদ হোসেনকে (১১) আউট করেন আফ্রিদি।

নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া বরিশাল। ঢাকার মারাত্মক বোলিংয়ের সামনে পরে ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। শেষপর্যন্ত ব্রাড হজের অপরাজিত ৭০ রানের সুবাদে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪০ রান করতে পারে বরিশাল। শেষদিকে আফ্রিদি ক্যাচ না ফেলে দিলে ব্যক্তিগত ৫০ রানেই সাজঘরে ফিরতে হতো বরিশালের অধিনায়ক হজকে।

বাজে ফিল্ডিংয়ের স্মৃতি খুব দ্রুতই অতীত হয়ে যায় ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটরস কাছে। সত্যি বলতে কি, জয়ের আনন্দে ভুলক্রটি গুলো চোখ এড়িয়ে যায়! জয়ের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দুই উইকেট হারিয়েই লক্ষ্য টপকে যায় মাশরাফি বিন মর্তুজার দল।

দলীয় ২৬ রানের মাথায় প্রথম উইকেট হারায় ঢাকা। সোহরাওয়ার্দীর বলে ক্যাচ আউট হন নাজিমউদ্দিন (১৩)। এর আগে একবার জীবন পান এই ক্রিটেকার। কিন্তু তার ক্যাচ নিতে ব্যর্থ হন ফিল্ডার। নাজিমের বিদায়ের পর আবারও বাজে ফিল্ডিংয়ের নমুনা উপহার দেয় বরিশাল। এবার জীবন পান ইমরান নাজির।

সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি নাজির। চার-ছয়ের ফুরায়া ঝরিয়ে নাস্তানাবুদ করেন বোলারদের। সতীর্থ এনামুল হকও ব্যাটিং তান্ডব চালান বরিশালের ওপর। ৪২ বলে ৭৫ রান করে নাজির যখন সাজঘরে ফেরেন ততক্ষণে দল পৌঁছে গেছে নিরাপদে স্থানে। শেষপর্যন্ত এনামুল হকের হার না মানা ৪৯ রানের সুবাদে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ঢাকা। তখনো বাকি ছিলো ২৬ বল।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: