মুক্তমত

২ মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস ঘোষনা করা হউক

ভূঞাঁ নূরের জামান

২ মার্চ ১৯৭১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওড়ানো হয়েছিল প্রথম এই পতাকাটি,পতাকাটি আমাদের স্বাধীনতার চেতনার প্রতীক। এক টুকরো লাল-সবুজের মাঝেই বাংলাদেশের পরিচিতি। জাতিসংঘ সদর দপ্তর অথবা বিশ্বকাপ ক্রিকেট, অলিম্পিক কিংবা কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে, তখন তা বাংলাদেশকেই ধারণ করে। আমাদের জাতীয় পতাকা দেখলে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে।

বত্তমানে বিশ্বের বিভিনন দেশে জাতীয় পতাকা দিবস পালন প্রথা রয়েছে নতুন প্রজন্মের কাছে  দেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে.

জাতীয় পতাকা দিবস প্রসতাবনা ও এর পটভূমি:

১৯৭০ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পল্টন ময়দানে সার্জেন্ট জহুরুল হকের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকীতে ছাত্রনেতারা সিদ্ধান্ত নেন দেশ স্বাধীন করতে সশস্ত্র আন্দোলন করতে হবে। সে লক্ষ্যে ‘১৫ ফেব্রুয়ারি’ নামে একটি ব্রিগেড গঠিত হয় সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে। নাম দেওয়া হয় ‘জয়বাংলা’ বাহিনী। জয়বাংলা বাহিনীর জন্য প্রয়োজন হয় একটি পতাকা। নির্দিষ্ট দিবস সামনে রেখে পতাকা তৈরিও সম্পন্ন হয়।

পতাকার আকার ও রং কী হবে, এ নিয়ে ছাত্রনেতারা বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছেন। একপর্যায়ে সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। আলোচনার একপর্যায়ে শাজাহান সিরাজ প্রস্তাব করলেন, পতাকার মধ্যে অবশ্যই লাল রং থাকতে হবে। আ স ম আবদুর রব বললেন, তাহলে জমিনটা হতে হবে সুবজ। মার্শাল মণি বললেন, তাহলে গাঢ় সবুজ রং দাও। কাজী আরেফ আহমেদ বললেন, এর সঙ্গে বাংলাদেশের মানচিত্র বসিয়ে দাও। এ সময় ছাত্রনেতা খসরু রাত দেড়টায় নিউমার্কেট থেকে কালি, তুলি ও কাপড় কিনে আনেন।
শিবনারায়ণ দাস এস এম হলে থাকতেন। রাত ১২টার দিকে তিনি আসেন ও পতাকার ডিজাইন তৈরির কাজে মনোযোগ দেন। ভোরে যখন পুবের আকাশে সূর্য লাল হয়ে উঠল, তখনই পতাকা তৈরির কাজ শেষ হয়। ছাত্রনেতারা ভোরের রক্তিম সূর্যের সঙ্গে পতাকাটি মিলিয়ে দেখেন। পতাকাটি সেদিন পেঁচিয়ে ঘরে রেখে দেওয়া হয় নিরাপত্তাজনিত কারণে। এই পতাকাটি ১৯৭১ সালের ২ মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওড়ানো হয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে জানলাম জাতীয় পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত সামষ্টিক ছিল, কিন্তু সম্মিলিত সিদ্ধান্তের রূপকার চিলেন শিব নারায়ন দাশ। খুব কমসংখ্যক লোকই এ নামের সঙ্গে পরিচিত।

শিবনারায়ণ দাশের জন্ম ১৯৪৬ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিক্রমপুরের টঙ্গিবাড়ী থানায়। কুমিল্লা জিলা স্কুলের ছাত্র হলেও ১৯৬২ সালে পরীক্ষা দিতে পারেননি। কলেজিয়েট স্কুল থেকে পরের বছর এসএসসি পাস করে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পাস করেন। ১৯৭৫ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এম এ ডিগ্রি নেন। কুমিল্লার সন্তান শিবনারায়ণ দাসের রাজনীতির হাতেখড়ি ধীরেন্দ্রনাথের হাত ধরে। রাজনীতির ময়দানে দ্রুত ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেন। একাত্তরে অসহযোগ আন্দোলনের সময় ছিলেন কুমিল্লা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। মুক্তিযুদ্ধে হানাদার বাহিনীর আক্রোশের শিকার হয়ে হারিয়েছেন তাঁর বাবাকে। তাঁর শহীদ বাবার মৃতদেহ খুঁজে পাননি। তার পরও পিছু হটেননি শিবনারায়ণ দাস। জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছেন। কিন্তু গত ৪০ বছরেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাঁকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। সম্প্রতি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় তাঁর হাতে মুক্তিযোদ্ধার সনদ তুলে দিয়েছে। আমরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই।

এখানে উলেলখ যোগ্য স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর পরামর্শে পটুয়া কামরুল হাসান পতাকা থেকে মানচিত্র বাদ দেন। কারণ, মানচিত্রের কারণে পতাকা বিকৃত হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে বঙ্গবন্ধু ওই নির্দেশ দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, জাতীয় পতাকা  একই সূত্রে গাথা. স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা সব আন্দোলনের জাতীয় পতাকা। জাতীয় পতাকা নিয়ে নতুন প্রজন্মের আগ্রহের কমতি নেই। আর সেই আগ্রহকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং এই প্রজন্মের কাছে জাতীয় পতাকার মূল্য তুলে ধরতেই ২মার্চ জাতীয় পতাকা দিবস ঘোষনা হউক.বতমান এই প্রজন্মের কাছে জাতীয় পতাকার মূল্য তুলে ধরতেই আয়োজন করা হয় জাতীয় পতাকা উৎসব পালন করা হয়.

স্বাধীনতার সপক্ষের দল হিসাবে বতমান সরকারের কাছে বিনিত অনুরোধ ২ মার্চকে জাতীয় পতাকা দিবস ঘোষনা করা হউক.

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

Advertisements

Calendar

February 2012
M T W T F S S
« Jan   Mar »
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
272829  
%d bloggers like this: