জাতীয়

দুদক বিল চূড়ান্ত: পূর্বানুমতি লাগবে না

মঈনুল হক চৌধুরী

ঢাকা, মার্চ ০১- সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে সরকারের পূর্বানুমতি লাগবে না- এমন বিধান রেখেই সংশোধিত দুর্নীতি দমন কমিশন বিল চূড়ান্ত করেছে সংসদীয় কমিটি।

‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) বিল, ২০১২’ শিরোনামের বিলটি সংসদের চলতি অধিবেশনে উপস্থাপনের জন্য বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত করে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় স¤পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকা আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “অনেক আলোচনা-পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, সরকারি কর্মকর্তাদের অভিযোগের তদন্তের বিষয়ে পূর্বানুমতি নেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। কোনো অভিযোগ এলেই দুদক মামলা করতে পারবে।”

একই সঙ্গে অন্য আইনে যাই থাকুক না কেন দুদকের আইনই অগ্রাধিকার পাবে বলে বিলে বলা হচ্ছে- উল্লেখ করেন শফিক আহমেদ।

চলতি অধিবেশনে সংশোধিত বিলটি উত্থাপন করা হবে বলে জানান মন্ত্রী।

সংসদীয় কমিটি পূর্বানুমতির বিধান ছাড়া বিল চূড়ান্তের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় স্বাগত জানান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা হাফিজউদ্দিন খান।

তিনি বলেন, “স্বাধীন দুদকের অবস্থান নিশ্চিত রাখতে ‘অনুমতির প্রয়োজন হবে না’ সুপারিশ থাকায় আমরা তা স্বাগত জানাচ্ছি।”

২০০৪ সালের আগ পর্যন্ত দুদক ছিল দুর্নীতি দমন ব্যুরো। সেসময় এটি প্রধানমন্ত্রীর অধীন একটি প্রতিষ্ঠান ছিল।

দুদকে কেউ মিথ্যা অভিযোগ দিলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে পাঁচ বছর কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে বিলে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আইন-২০০৪ সংশোধনের জন্য গতবছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি সংসদে বিল উত্থাপিত হয়।

এতে ৩২(ক) ধারা সংশোধনের প্রস্তাবে বলা হয়, এ আইনের অধীনে জজ, ম্যাজিস্ট্রেট বা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করতে হলে সরকারের পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

বিদ্যমান আইনে সরকারি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে সরকারের কাছ থেকে দুদকের পূর্বানুমতি নিতে হয় না।

এভাবে এই আইনটি পাশ হলে দুদকের স্বাধীনতা বলে কিছু থাকবে না বলে গত ২৭ জানুয়ারি মন্তব্য করেন দুদক চেয়ারম্যান গোলাম রহমান।

বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতায় প্রতিবেদন

গত ২৬ জুন কমিটির ৪০তম বৈঠকে আইনটি যুগোপযোগী করতে প্রয়োজনে কমিটির সদস্যরা বিদেশে সফর করার প্রস্তাব তুলে ধরে।

এরই ধারাহিকতায় ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়া ঘুরে এসে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রতিনিধি দল তাদের প্রতিবেদন কমিটির কাছে উপস্থাপন করে।

সে সময় কমিটির তৎকালীন সভাপতি সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বলেছিলেন, ওই তিন দেশে কোনো কর্মকর্তার দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইনকোয়ারি, ইনভেস্টিগেশন ও প্রসিকিউশনে কোনো পূর্বানুমতির বিধান নেই।

বৃহস্পতিবারের বৈঠকে কমিটির সভাপতি মো. ফজলে রাব্বী মিয়া সভাপতিত্ব করেন। কমিটির সদস্য আলহাজ্ব এডভোকেট মো. রহমত আলী, শেখ ফজলে নূর তাপস এবং ফজিলাতুন নেসা বাপ্পি বৈঠকে অংশ নেন।

বিশেষ আমন্ত্রণে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ এবং রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠকে দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান গোলাম রহমান ও আইন সচিব মোহাম¥দ শহীদুল হক এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: