অর্থনীতি

ধন্যবাদ, বিশ্বব্যাংকে আগ্রহী নই: ইউনূস

ঢাকা, মার্চ ০২- বিশ্বব্যাংকের প্রধান পদের জন্য নাম প্রস্তাব করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ওই পদের চেয়ে গ্রামীণ ব্যাংক ও সামাজিক ব্যবসা নিয়েই তিনি আগ্রহী।

এখন থেকে তার এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি প্রধানমন্ত্রীর ‘সর্বশেষ অবস্থানের’ সঙ্গে সংগতিপূর্ণ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন ক্ষুদ্রঋণদাতা এই ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইউনূস।

গত ২২ ফেব্রুয়ারি ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি বিশ্বব্যাংকের পরবর্তী প্রধান হিসেবে ইউনূসের নাম তোলেন। যদিও মুহাম্মদ ইউনূসকে গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে সরানোর জন্য হাসিনাকেই সবচেয়ে বেশি দায়ী করা হয়।

এর ৯ দিনের মাথায় শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউনূস বলেন, “এই প্রস্তাবটি আমার জন্য ছিল একটি সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত সুসংবাদ। বিশ্বের সুপরিচিত এবং বিপুল প্রভাবশালী একটি প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ পদে আমার নাম প্রস্তাব করার অনুরোধ জানিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে সহৃদয়তার পরিচয় দিয়েছেন তার জন্য আমি তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।”

নরওয়ের টেলিভিশনে ২০১০ এর ডিসেম্বরে প্রচারিত একটি প্রামাণ্যচিত্রে গ্রামীণ ব্যাংককে দেওয়া বিদেশি অর্থ স্থানান্তরের অভিযোগ ওঠে ইউনূসের বিরুদ্ধে। আর গত বছরের মার্চে অবসরের বয়সসীমা পেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ তাকে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে অব্যাহতি দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ইউনূস এর বিরুদ্ধে আদালতে গেলেও আইনি লড়াইয়ে হারেন। এই পুরো সময়টায় শেখ হাসিনার সঙ্গে তার সম্পর্কের যে ‘তিক্ততা’ তৈরি হয়েছিল- সে প্রসঙ্গও বিবৃতিতে ফিরিয়ে এনেছেন এই নোবেল বিজয়ী।

“প্রস্তাবটি ও তার সঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমার যোগ্যতার যে উদার তালিকা দিয়েছেন, তার মাধ্যমে পরিষ্কার হলো যে আমার সম্বন্ধে এবং গ্রামীণ ব্যাংক সম্বন্ধে তাঁর যে পূর্ববর্তী ধারণাগুলি ছিল সেগুলির অবসান হয়েছে। এতে আশান্বিত হয়েছি যে এখন থেকে আমার প্রতি এবং গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ অবস্থানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হবে। এর ফলে আমার এবং আমার মত অনেক দেশবাসীর মাথার উপর থেকে দুঃখ ও দুঃশ্চিন্তার একটা বিরাট বোঝা নেমে যাবে।”

প্রধানমন্ত্রী ওই প্রস্তাব তোলার পরদিন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের প্রতিনিধিরা এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, শেখ হাসিনার প্রস্তাবটি ইতিবাচক ও আগ্রহোদ্দীপক। এ নিয়ে সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান মজিনাও বলেন, ইউনূস আগ্রহী হলে তার দেশ তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেবে।

এই প্রস্তাবের জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ইউনূস বলেছেন, বিশ্বব্যাংকের প্রধান বা ওই ধরনের কোনো পদে যাওয়ার কথা তিনি নিজে কখোনো ভাবেননি।

“দীর্ঘকালব্যাপী বিশ্ব ব্যাংকের একজন নিয়মিত সমালোচক হিসেবে আমি তার নীতি ও কার্যক্রমের কঠোর সমালোচনা করে এসেছি। এই ব্যাংকের সর্বোচ্চ পদটি যুক্তরাষ্টের নাগরিকদের জন্য বরাদ্ধ করে রাখার বিষয়টিও আমার সমালোচনার বিষয়বস্তু ছিল। কিন্তু তাই বলে যেকাজে নিজেকে সঁপে দিয়েছি তার বাইরে গিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের সর্বোচ্চ দায়িত্ব গ্রহণ করার ব্যাপারে আমার মনে কোনো আগ্রহ জন্মেনি। এখনও এ রকম কোন আগ্রহ আমার নাই।”

অবশ্য বিবৃতিতে ইউনূস বলেছেন, অতীতেও এ ধরনের বড় পদের জন্য একাধিকবার তার নাম এসেছিল। ১৯৯৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ওভাল অফিসে আমন্ত্রণ জানিয়ে বিশ্ব ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট করার প্রস্তাব দেন। আর ২০০৫ সালের শেষ দিকে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া জাতিসংঘ মহাসচিব পদের জন্য ইউনূসের নাম প্রস্তাব করার বিষয়ে সম্মতি চান।

“আমি তাদেরকে আমার অপরাগতার কথা জানিয়ে যাচ্ছিলাম। মাননীয় প্রধান মন্ত্রীকেও তার সহৃদয়তার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার নিজের কাজে নিয়োজিত থাকার ব্যাপারে সুযোগ প্রার্থনা করেছিলাম। তিনি কয়েকবার অনুরোধ করার পরও আমি আমার মন পাল্টাতে পারিনি”, বলেন ইউনূস।

বরং সামাজিক ব্যবসার প্রসার নিয়েই বেশি আগ্রহী বলে বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেছেন।

“আশা করি, অদূর ভবিষ্যতে ‘বিশ্ব সমাজিক ব্যবসা ব্যাংক’ প্রতিষ্ঠিত হবে এবং বিশ্বের মৌলিক অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যার দ্রুত সমাধানে এই ব্যাংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”

“এই ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট হবার জন্য যদি কেউ আমাকে অনুরোধ করে, তবে সানন্দে সে দায়িত্ব নিতে আমি এগিয়ে আসবো- ততদিনে আমার বয়স যতই হোক”, যোগ করেন ইউনূস।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: