আন্তর্জাতিক

গাদ্দাফি সমর্থকদের নির্যাতনের ভিডিও ফাঁস

অনলাইন ডেস্ক: এক সময়ে যাদের দুর্দান্ত প্রতাপে সবাই ভয়ে দিন কাটাতো, সেই গাদ্দাফির সহযোগীরাই এখন চিড়িয়াখানার জন্তুর মতো বিদ্রোহীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। ইউটিউবে দেয়া এক ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, লিবিয়ার বিদ্রোহীরা সাবসাহারা আফ্রিকার বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাচ্ছে। ভিডিও ফুটেজে ১০-১২ জন বন্দির দলটি মুয়াম্মার গাদ্দাফির পক্ষে লড়াই করা সেনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। চিড়িয়াখানার খাঁচার মতো খাঁচার ভেতরেই পেছনে হাত বাঁধা অবস্থায় তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে। তবে সবচেয়ে আপত্তির বিষয় হচ্ছে এদের প্রত্যেকের মুখের ভেতরই লিবিয়ার পুরনো পতাকা গুঁজে দেয়া হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে বন্দিদের খাঁচার চারপাশে একদল মানুষ উল্লাসে চেঁচাচ্ছে। ভিডিও ধারণকারীকে দেখা না গেলেও তার গলার আওয়াজ পাওয়া গেছে। তিনি বন্দিদের কুকুর সম্বোধন করে চিৎকার দিয়ে বলছেন, এবার তোরা লিবিয়ার পতাকা খা।  ধৈর্য সহকারে আস্তে আস্তে খা। গত সপ্তাহে ইউটিউবে প্রকাশিত এ ভিডিওটির সত্যতা বা কোথায় কবে ধারণ করা হয়েছে সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গত সপ্তাহে বলা হয়েছে, লিবিয়ার রেভ্যুলশনারি ব্রিগেেেডর বিরুদ্ধে গৃহযুদ্ধের সময় বিদ্রোহীদের হাতে আটক বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ রয়েছে। বুধবার জাতিসংঘ এক বিবৃতিতে বলেছে, বিচার বিভাগের পর্যবেক্ষণের অভাবে সরকার বিভিন্ন কারাগারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারছে না। ৬০০০ বন্দি এখনও ব্রিগেডের অধীনে বন্দি রয়েছে। লিবিয়ার আইন মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যেই ২৩৮২ জন বন্দিসহ আটটি বন্দিশালার নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেছে। লিবিয়াতে জাতিসংঘের বিশেষ দূত আয়ান মার্টিন নিরাপত্তা পরিষদে এ তথ্য জানিয়েছেন। বন্দিদের অনেকেই সাবসাহারা আফ্রিকান গাদ্দাফির ভাড়াটে সেনা হিসেবে কাজ করেছে বলে আটককারীরা দাবি করছেন। লিবিয়ায় ৯ মাস ধরে চলা গৃহযুদ্ধের সময়ও বন্দিদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে ব্রিগেডের বিরুদ্ধে বিভিন্ন দাতা সংস্থা ও জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা অভিযোগ করেছে। বিশেষ দূত মার্টিন বিভিন্ন বন্দি শিবিরের ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ ত্বরান্বিত করার জন্য লিবিয়ার আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তবে তিনি বলেছেন, বিচার বিভাগের জনবল স্বল্পতার কারণে এ প্রক্রিয়া আরও জটিল আকার ধারণ করবে। তিনি আরও বলেছেন, লিবীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আমরা ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছি। বিভিন্ন বন্দিশালায় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে আমরা তাদের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। গাদ্দাফির আমলে নির্যাতন এবং নিপীড়নের সমালোচনাকারী ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল লিবিয়ার ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের জন্য এ ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ বেশ বিব্রতকর।

কেননা, তারা একটা নিপীড়ন মুক্ত প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গাদ্দাফিবিরোধী বিদ্রোহীদের সমর্থনকারী পাশ্চিমা শক্তির জন্যও এ ধরনের অভিযোগ বিব্রতকর। নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়ার দূত আব্দুর রহমান মোহাম্মদ শালঘাম বলেছেন, সাবেক গাদ্দাফি প্রশাসনের মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ যেসব বন্দি সরকারের অধীনে রয়েছেন, তাদের সঙ্গে বেশ ভাল ব্যবহার করা হচ্ছে। তিনি বলেন, তবে কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে সরকার এখনও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি। ওই সব এলাকায় কোন আদালত বা পুলিশি প্রহরা নেই। তিনি বলেন, আমরা সব জায়গার এ ধরনের নির্যাতনের জন্য দায়ী নই। আমরা এ ধরনের নির্যাতনের বিরোধিতা করি। এর জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: