প্রবাস বাংলা

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে সৌদির নয়া শর্ত

ঢাকা: প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, প্রবাসীদের মধ্যে সাম্প্রতিককালে অপরাধ প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। এই অপরাধ প্রবণতা না কমলে সৌদি আরব বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নিতে আগ্রহী নয়।

শনিবার সৌদি আরব সফর শেষে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি একথা জানান। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীসহ ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল গত ২২ ফেব্রুয়ারি সৌদি আরব সফরে যান।

মন্ত্রী জানান, আগামী দুই মাসের মধ্যে সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসবে। এই প্রতিনিধি দলের রিপোর্টের ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে নতুন করে লোক নেওয়া শুরু করবে সৌদি আরব। আর নতুন করে জনশক্তি নেওয়া শুরু হলে সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশীদের আকামা (ওয়ার্ক পারমিট) পরিবর্তন প্রক্রিয়া সহজ হবে।

খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘এখন থেকে বিদেশ যাওয়ার সময় বাংলাদেশি নাগরিকদের রেজিস্ট্রশনসহ স্ক্যানিং করা হচ্ছে। এর ফলে যাদের নামে মামলা রয়েছে তারা বিদেশে যেতে পারবে না। সৌদি সরকারের সঙ্গে আলোচনার সময় আমরা জানিয়েছি, বাংলাদেশি প্রতিটি কর্মীর জীবন বৃত্তান্তসহ একটি স্মার্ট কার্ড দেবে বাংলাদেশ সরকার। যাতে সন্দেহজনক কোনো লোক বিদেশে যেতে না পারে। এ ধরনের একটি কার্ডের স্যাম্পলও সৌদি সরকারকে দিয়েছি আমরা।’

মন্ত্রী জানান, সৌদি আরব নিজেই এখন অর্থনৈতিক চাপে রয়েছে। তাদের লোকেরাই কর্মহীন রয়েছে। তাই বিদেশ থেকে লোক নেওয়ার ব্যাপারে তারা সতর্কতা অবলম্বন করছে। এজন্য সৌদি সরকার একটি পরিকল্পনা করছে। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী কোন খাতে কত লোক নেওয়া হবে তা নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘আশার কথা সৌদি আরব শিগগিরই পাঁচটি মেগাসিটি তৈরি করতে যাচ্ছে। এসব সিটির কাজ শুরু হলে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আবার লোক নেওয়া শুরু করবে।’

খন্দকার মোশাররফ জানান, সৌদি আরব ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে একটি ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনে সম্মত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে এই কমিটি গঠিত হবে অনুরূপভাবে সৌদি আরবের তিনটি মন্ত্রণালয় একটি কমিটিতে সংযুক্ত হবে।

মন্ত্রী বলেন, সৌদি সরকারের হিসেবেই ৫/৬ রোহিঙ্গা সেখানে রয়েছে। তবে এদের বিষয়ে কোনো আলোচনা করিনি। কারণ এটি ভিন্ন প্রসঙ্গ। তিনি বলেন, কয়েকজন লোকের অপরাধের কারণে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে তা কাম্য নয়। কেউ অপরাধ করলে বাংলাদেশ সরকার এদের শাস্তির পক্ষে। এ ধরনের অপরাধীদের কোনো তালিকা সৌদি আরব দেয়নি। তবে তারা যদি এ ধরনের অপরাধীদের তাদের দেশে না রাখতে চায় তাহলে বাংলাদেশ সরকার তাদের ফিরিয়ে আনবে।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: