খেলা

ধারা পাল্টে শুভ সূচনা অসিদের

স্পোর্টস ডেস্ক: পুনরাবৃত্তি নয়, নতুন নেতার নেতৃত্বে নতুন করেই শুরু করলো অস্ট্রেলিয়া। ত্রিদেশীয় সিরিজের আগের তিনটি আসরেই প্রথম ফাইনালে হেরেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। এবার হারতে হারতে শেষ পর্যন্ত জিতে গেল তারা। ৫০ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার করা ৩২২ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে দারুণ জমে ওঠা ফাইনালে ৩০৬ রানে থেমে যায় লঙ্কান লড়াই। ১৫ রানের জয় নিয়ে বেস্ট থ্রি ফাইনালে ১-০তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। টার্গেটে ব্যাটিং করতে নেমে শ্রীলঙ্কার শুরুটা ভাল হয়নি। ৫২ রানেই তারা অধিনায়ক মাহেলা জয়াবর্ধনে ও দিলশানকে হারিয়ে ফেলে। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে শ্রীলঙ্কার ব্যাটিং ততই ক্ষুরধার হয়েছে। প্রথম শতরান করতে লঙ্কানরা ১১২ বল ব্যয় করে। দ্বিতীয় শতরান আসে ১১৭ বল থেকে। কিন্তু শেষ শতরান আসে মাত্র ৫৬ বল থেকে। তৃতীয় উইকেটে সাঙ্গাকারা-চান্ডিমল মিলে ৪১ রান যোগ করেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় রানের চাহিদা মেটাতে গিয়ে দু’জনই বিদায় নিলে ম্যাচ অনেকটাই অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সাঙ্গাকারা ৪২ ও চান্ডিমল মাত্র ১৪ রান করেন। এর মাঝে থিরিমান্নে ও মাহরুফ দ্রুতই ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার হার সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। তখনও কেউ ভাবেনি ম্যাচের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশের প্রদর্শনী বাকি রয়েছে। ১৪৪ রানে যখন ষষ্ঠ উইকেটের পতন ঘটে জয়ের জন্য তখনও শ্রীলঙ্কার দরকার ছিল ১১৯ বলে ১৭৮ রান। ব্যাটিং অর্ডার বদলে করে ছয়ে ব্যাটিং করতে নামেন উপুল থারাঙ্গা। নুয়ান কুলাসেকারা তার সঙ্গে যোগ দিয়ে রীতিমতো ঝড় তোলেন স্বাগতিক বোলারদের ওপর। মাত্র ৪৩ বল খেলে ৭ চার ও ৩ ছয়ে ওয়ানডেতে ক্যারিয়ার সেরা ৭৩ রান করেন কুলাসেকারা। এটি তার মাত্রই দ্বিতীয় হাফ সেঞ্চুরি। ১১২ ম্যাচ থেকে তিনি ২টি হাফ সেঞ্চুরি করেন। কুলাসেকারার ক্যামিওতে থারাঙ্গা পার্শ্বচরিত্রের ভূমিকায় ছিলেন। ১০৪ রানের জুটি গড়ে ২৪৮ রানে কুলাসেকারা বিদায় নেন। তখন ৫০ বলে শ্রীলঙ্কার দরকার ৭৪ রান, হাতে ছিল ৩টি উইকেট। তখনও নাটকের শেষ হয়নি কারণ প্রসাদের ব্যাটিং বাকি ছিল। প্রথম ফাইনালে থারাঙ্গা যেন অন্যের ছায়ায় থাকতেই এসেছিলেন। ৬০ রান করে তিনি দলীয় ২৮৫ রানে আউট হয়ে যান। ৯ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নামা প্রসাদ এবার দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে আক্রমণ শুরু করেন। শেষ উইকেটে ১৪ বল থেকে ২১ রান দরকার ছিল শ্রীলঙ্কার। কিন্তু এর সঙ্গে মাত্র ৫ রান যোগ করেই মালিঙ্গা ফিরে গেলে শ্রীলঙ্কার অভিযান শেষ হয়। প্রসাদ ২১ বল থেকে অপরাজিত ৩১ রান সংগ্রহ করেন। ব্রেট লি প্রথম ৩ উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রাথমিক আক্রমণ প্রতিহত করেন। কিন্তু দুর্দান্ত ফর্মে থাকা চান্ডিমল, থিরিমান্নে, মাহরুফ এবং ম্যাচের প্রধান হুমকি কুলাসেকারাকে আউট করে বোলিংয়ের মূল কাজটি করেন ডেভিড হাসি। এটি তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারে দ্বিতীয় সেরা বোলিং নৈপুণ্য। ২১ রানে ৪ উইকেট তার ক্যারিয়ারে সেরা বোলিং। এর আগে টসে জিতে ব্যাটিংয়ে নামা অস্ট্রেলিয়া ডেভিড ওয়ার্নারের প্রথম সেঞ্চুরির ওপর ভর করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩২১ রান সংগ্রহ করে। অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসকে ওয়ার্নারময় বলা যায়। একমাত্র ওয়েডের ৬৪ রান ছাড়া আর বলার মতো কোন স্কোর ছিল না অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে। তবে ওয়ার্নারের ইনিংসটি স্বভাবজাত হার্ডহিটিং ছিল না। ১৬৩ রান করতে তিনি ১৫৭টি বল খেলেন। উদ্বোধনী উইকেটেই অস্ট্রেলিয়া এই ম্যাচের সর্বোচ্চ ১৩৬ রানের জুটি গড়ে। তৃতীয় সর্বোচ্চ ৩৭ রান করেন অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্ক। শ্রীলঙ্কার পক্ষে প্রসাদ ৫১ রান দিয়ে ২টি উইকেট দখল করেন। তবে ৯ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকা দিলশান ছিলেন প্রথম ফাইনালে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে মিতব্যয়ী বোলার। ওয়ানডে ক্যারিয়ারে প্রথম শতরান করে ডেভিড ওয়ার্নার ম্যাচসেরা হন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর
টস: অস্ট্রেলিয়া (ব্যাটিং)
অস্ট্রেলিয়া: ৫০ ওভারে (৩২১/৬, ওয়ার্নার ১৬৩, ওয়েড ৬৪, প্রসাদ ২/৫১)
শ্রীলঙ্কা: ৪৯.২ ওভারে (৩০৬/১০, কুলাসেকারা ৭৩, থারাঙ্গা ৬০, সাঙ্গাকারা ৪২, প্রসাদ ৩১*, ডেভিড হাসি ৪/৪৩, লি ৩/৫৯)
ফল: অস্ট্রেলিয়া ১৫ রানে জয়ী
ম্যাচ সেরা: ডেভিড ওয়ার্নার
পরের ম্যাচ: ৬ই মার্চ বাংলাদেশ সময় সকাল ৯.২০ মিনিট।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: