জাতীয়

পুঁজিবাজারে ক্ষতিগ্রস্তদের সুদ অর্ধেক মওকুফ, (আইপিও) ২০ শতাংশ কোটা

ঢাকা, মার্চ ০৪ – পুঁজিবাজারের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পোষাতে তাদের নেওয়া মার্জিন ঋণের এক বছরের সুদের ৫০ শতাংশ মওকুফ করা হবে। আগামী প্রাথমিক গণপ্রস্তাবগুলোয় (আইপিও) ২০ শতাংশ কোটাও থাকবে তাদের জন্য।

রোববার দুপুরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

অর্থমন্ত্রী বলেন, “মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজসহ সংশ্লিষ্ট ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হিসাবসমূহের এক বছর সময়ে অর্জিত সুদের ৫০ শতাংশ মওকুফ করতে পারবে।”

“বাকি যে ৫০ শতাংশ সুদ থাকবে তা একটি সুদবিহীন ব্লক অ্যাকাউন্ট হিসেবে স্থানান্তর করে তিন বছরে সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে শোধ করার সুযোগ দেওয়া হবে,” যোগ করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিজস্ব অর্থ বিনিয়োগকারীকে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী ধরা হয়েছে।

এছাড়া ২০১২ ও ২০১৩ সালে ইস্যু করা সব ধরণের আইপিওতে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের জন্য ২০ শতাংশ কোটা রাখারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ক্ষতিগ্রস্থ সব বিনিয়োগকারীদের যারা ঋণ নেননি, তারাও এ সুবিধা পাবেন।

এসব সিদ্ধান্ত অবিলম্বের কার্যকর হবে বলে অর্থমন্ত্রী জানান।

মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো সুদ মওকুফ করতে বাধ্য কিনা এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, “তারা সবাই কথা দিয়েছে যে তারা সুদ মওকুফ করবে।”

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ এ হাফিজ সাংবাদিকদের বলেন, “মার্চেন্ট ব্যাংকগুলো অবশ্যই সুদ মওকুফ করবে।”

২০১১ সাল অথবা ২০১১-২০১২ অর্থবছরে যারা ক্ষতিগ্রস্ত রয়েছেন, তারা ঋণ মওকুফের এ সুবিধা পাবেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ক্ষতিপূরণ কিভাবে দেয়া হবে, মার্চেন্ট ব্যাংক ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো তা তারা নিজেরা ঠিক করবেন। এটি তারা নিজের খরচ হিসাবেই দেবেন। এজন্যে তারা সরকারের কাছ থেকে কর সুবিধা পাবেন।

সভা শেষে সাংবাদিকদের কাছে দেয়া সিদ্ধান্তের লিখিত কপিতে বলা হয়েছে, “মার্জিন হিসাবে ৩০ নভেম্বর ২০১১ ডেবিট ব্যালেন্স হতে মোট সুদ (মওকুফযোগ্য ও প্রাপ্য) বাদ দেয়ার পরে অবশিষ্ট অর্থ ভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করে যুক্তিসঙ্গত হারে (সব্বোর্চ্চ ১০ শতাংশ হারে) তিন বছরের সমান ত্রৈমাসিক কিস্তিতে পরিশোধের জন্যে পুনঃতফসিল করার সুযোগ থাকবে।”

এই আলাদা তহবিলে স্থানান্তরিত অর্থ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকের একক গ্রাহক ঋণসীমা এবং পুঁজিবাজারের বিনিয়োগ সীমা থেকে বাদ দিয়ে হিসাব করার বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ জানানো হবে।

নতুন করে মার্জিন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে এই আলাদা করে রাখা তহবিলের অর্থ বিবেচনায় না নিয়ে প্রচলিত নিয়মে ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্থ হিসাবে নতুন করে মার্জিন ঋণ দিয়ে লেনদেনের সুযোগ দেবে।

এসব সিদ্ধান্তে বাজার স্থিতিশীল হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী।

বৈঠকে বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), বাংলাদেশ ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস ও বাংলাদের্শ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত আছেন।

২০১০ সালের ডিসেম্বর থেকে পুঁজিবাজারে অস্থিরতা শুরু হয়। এরপর চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এক বছর দুই মাসে তিন দফায় দরপতন হয় প্রায় ৬০ শতাংশ।

এর মধ্যেই গত ১৬ নভেম্বর পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বাজার স্থিতিশীল করার পাশাপাশি ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের ক্ষতি পুষিয়ে দিতে বিভিন্ন সুপারিশ প্রণয়ণের লক্ষ্যে সরকারের ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফায়েকুজ্জামানকে প্রধান করে একটি কমিটি গঠন করা হয়।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: