জাতীয়

বিমানের ‘সেই’ কর্মীদের চাকরি ফেরতের পক্ষে রায়

ঢাকা, মার্চ ০৪ – সেনা সমর্থিত গত তত্ত্বাবধায়ক আমলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স থেকে স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়াদের চাকরি ফেরতের পক্ষে নির্দেশ দিয়েছে উচ্চ আদালত।

২০০৭ সালে ক্ষমতায় আসা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় ‘স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম’র আওতায় অবসরে যাওয়া বিমানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্য পদের বিপরীতে নতুন করে নিয়োগ দিতে রোববার আদেশ দেয় হাই কোর্টের একটি বেঞ্চ।

জ্যেষ্ঠতা, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অতীত সার্ভিস রেকর্ড ও স্বাস্থ্যগত সক্ষমতা ভিত্তিতে তাদের এই নিয়োগ দিতে বলা হয়।

এছাড়া যারা ‘স্বেচ্ছায় অবসর’-এর সুযোগ-সুবিধা উত্তোলন করেননি তাদের জ্যেষ্ঠতাসহ চাকরিতে পুনর্বহাল করতে বলা হয়। তবে স্বেচ্ছা অবসর থেকে বর্তমান পর্যন্ত মাঝের সময়টির বিষয়ে বিমানের বিধি অনুসারে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়।

রায়ে একইসঙ্গে ‘স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম’কে বৈধ ঘোষণা করা হয়।

অবসর নেওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিপুল সংখ্যক রিটের নিষ্পত্তি করে এই রায় দেয় বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি আব্দুর রবের বেঞ্চ।

আদালতে বিমানের আইনজীবীরা বলেন, বিমানে বর্তমানে ৬০৮টি শূন্য পদ রয়েছে।

আদালতে প্রতিকার চেয়ে রিট আবেদনকারীরাই এই সুবিধা পাবেন বলে আবেদনকারী ও বিমানের আইনজীবীরা জানান।

সেনা সমর্থিত গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৭ সালের জুন মাসে বিমানে স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম’র জন্য একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এর ভিত্তিতে বিমানের ১৮৭৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসর নেন।

পরে জোর করে স্বেচ্ছায় অবসর স্কিমে নেওয়া হয়েছে মর্মে অভিযোগ করে ‘অবসর’ গ্রহণকারীরা হাই কোর্টে আসতে থাকেন। হাই কোর্টের বিভিন্ন বেঞ্চে তাদের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ সালে রুল জারি করে। এ সব রুলের অধিকাংশের চূড়ান্ত শুনানি করে রোববারের আদেশ দেওয়া হয়।

‘এদের নিয়োগের আগ পর্যন্ত নতুন নিয়োগ হবে না’

রিটকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাহউদ্দিন দোলন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালতের এই আদেশের ফলে বিমান যাদের স্বেচ্ছায় অবসরে পাঠিয়েছে, তারা ধারাবাহিকভাবে বিমানে নিয়োগ পাবেন।”

“এ ছাড়াও রিট আবেদনকারী বাকিরাও পরবর্তীতে বিমানে কোনো নতুন পদ খালি হলে বা সৃষ্টি হলে সেখানে নিয়োগ পাবেন।”

“তার মানে হচ্ছে, এদেরকে নতুন করে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত বিমান বাইরের কাউকে আর নিয়োগ দিতে পারবে না।”

“তবে এই নিয়োগে তারা পূর্ববর্তী জ্যেষ্ঠতা পাবে না। বিমানের সার্ভিস রুল অনুযায়ী নতুন চাকরি হিসাবে সুযোগ-সুবিধা পাবে।”

স্বেচ্ছায় অবসরের পর বিমানের অনেক কর্মচারীকে দৈনন্দিন ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয় জানিয়ে এ আইনজীবী বলেন, “পুনর্নিয়োগের ক্ষেত্রে রিট করে থাকলে তারাও বিবেচিত হবেন। যারা অবসরের সুযোগ-সুবিধা উত্তোলন করেননি, তাদেরকে জ্যেষ্ঠতাসহ নিয়োগ দিতে বলা হয়েছে। এ ধরণের সাত ব্যক্তি রয়েছেন।”

১১৭২ জনের ৭১টি রিট আবেদন নিষ্পত্তি করে এই রায় দেওয়া হয় বলেও জানান ৫৩৬ জন আবেদনকারীর আইনজীবী সালাহউদ্দিন।

আদালতে অন্য রিটকারীদের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক, আব্দুল মতিন খসরু, ব্যারিস্টার নজরুল ইসলাম, ব্যারিস্টার ওমর সাদাত, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব শফিক প্রমুখ।

‘মূলত বিমানেরই জয়’

আদালতে বিমানের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার কামালুল আলম, ব্যারিস্টার আখতার ইমাম, ব্যারিস্টার জোনায়েদ আহমেদ চৌধুরী, খোন্দকার দিলীরুজ্জামান, একরামুল হক টুটুল প্রমুখ।

ব্যারিস্টার জোনায়েদ আহমেদ চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আদালত শূন্য পদের বিপরীতে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়াদের নিয়োগ দিতে বললেও এ জন্য কোনো সময়সীমা বেঁধে দেয়নি।”

“তার মানে হচ্ছে, বিমান যদি এ সব পদে লোক নিয়োগ করতে চায়, তাহলে তাদেরকে নিয়োগ দিতে হবে।”

দিলীরুজ্জামান বলেন, “এই মামলায় মূলত বিমানেরই জয় হয়েছে। আদালত ‘স্বেচ্ছায় অবসর স্কিম’কে বৈধ ঘোষণা করেছে।”

“একইসঙ্গে অবসরে যাওয়াদের মধ্যে যারা সুযোগ-সুবিধা নেননি তাদের পুনর্বহাল করতে বলেছে।”

“আর যারা সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন, তাদের নতুন নিয়োগ দিতে বলা হলেও এক্ষেত্রে আদালত চারটি শর্ত দিয়েছে। শর্তগুলিতে উত্তীর্ণ হলেই তাদের নিয়োগ দেওয়া হবে।”

তিনি জানান, এ বিষয়ে ৭০রটির বেশি রিট হাই কোর্টে দায়ের করা হয়েছিল। ৬১টির চূড়ান্ত শুনানি করে এই আদেশ দেওয়া হয়।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: