খেলা

মোহামেডানকে হারিয়ে ফিরলো শেখ জামাল

স্পোর্টস রিপোর্টার: অবশেষে জিতলো শেখ জামাল। টানা দুই ম্যাচ হারে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল গেলবারের লীগ চ্যাম্পিয়নরা। কোচ বহিষ্কার, দুই বিদেশীকে জোরপূর্বক পদত্যাগ করানোসহ নানা বিতর্কে পর্যুদস্ত হয়ে পড়েছিল ক্লাবটি। এমন অবস্থা থেকে উত্তোলনের জন্য জয় বিহীন কোন পথই খোলা ছিল না দলটির। গতকাল তাই করলো তারা। মোহামেডানকে ২-১ গোলে হারিয়ে লীগে দ্বিতীয় জয় তুলে নেয়ার পাশাপাশি পয়েন্ট টেবিলেও কয়েক ধাপ উন্নতি করলো শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। এই জয়ের ফলে ছয় ম্যাচে দুই জয় আর এক ড্র নিয়ে দলটির ঝুলিতে এখন সাত পয়েন্ট। সাত পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান এখন চতুর্থস্থানে। অপরদিকে এটি মোহামেডানের দ্বিতীয় হার। এই হারের ফলে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট নিয়ে মোহামেডান এখন অষ্টম স্থানে।
তিন ম্যাচে পাঁচ পয়েন্ট খোয়ানোর দায়ে চাকরি হারিয়েছিলেন কোচ সাইফুল বারী টিটু। বিদায় নিতে হয়েছিল টিটুর সহকারীদেরও। টিটুর বহিষ্কারের দিনই দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন আবু ইউসুফ। দায়িত্ব নেয়ার পরও টানা দুই ম্যাচ হেরে একটু বেকায়দায় ছিলেন এ কোচ। তাই মোহামেডানকে হারানোয় একটু বেশি খুশি মনে হয়েছে আবু ইউসুফকে। ‘দলের প্রতিটি খেলোয়াড়ই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল। দায়িত্ব নিয়েই এই বিষয়ে সময় দিয়েছে। মানসিকভাবে ফিট হওয়াতেই মোহামেডানের বিরুদ্ধে উজ্জীবিত ফুটবল খেলেছে মোহামেডান। ফলাফল ২-১ এ জয়। জানালেন তিনি’।

এদিকে মোহামেডানের কোচ এমেকা ইউজিগো ম্যাচ হারায় দায় দিলেন দলের ফুটবলারদের। এমন খেললে আর যাই হোক জয় পাওয়া সম্ভব না জানালেন এই নাইজেরিয়ান। ঠিক তাই। খেলা শেষ হওয়ায় মিনিট সাতেক আগে মোহামেডানের নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড উইলকক যে সুযোগ নষ্ট করলেন তা কোনভাবেই ক্ষমা করা যায় না। ৮৩ মিনিটে ইয়াসিনের লব তপুর হেড ওপেন নেট পেয়েও বাইরে মারেন এই নাইজেরিয়ান। ফলে ম্যাচ শেষে মোহামেডানের সমর্থকদের রোষানলে পড়তে হয় তাকে।
গতকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে নবম মিনিটে ৩৫ গজ দূর থেকে দুর্দান্ত ফ্রিকিকে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের এগিয়ে দেন ফেমি অরুনিমি। দ্বিতীয় গোলেও অবদান তার। ২২ মিনিটে প্রাপ্ত কর্নারে নাইজেরিয়ান এই মিডফিল্ডার বল বিপদ সীমানায় ভাসালে তাতে ভলি করেন ইউসুফ। সাদা-কালো গোলরক্ষক হিমেল ফেরালেও দল বিপদমুক্ত হয়নি। কিছুটা আনমার্কড সামনিকের সাইডভলিতে বল মোহামেডানের জাল খুঁজে পায়। তবে চতুর্থ মিনিটেই এগিয়ে যেতে পারতো শেখ জামাল। ‘সেটপিস মাস্টার’ ফেমির ভাসানো বল ক্রসবার ছুঁয়ে মাটিতে পড়ার আগেই কেস্টারের হেড প্রতিহত করেন হিমেল। তবে শুরুতেই দুই গোল হজম করায় ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় সাদা-কালোরা। তারপরও বার কয়েক তেড়ে-ফুঁড়ে ওঠার চেষ্টা করেন ওয়াহেদ, তপু, সোহেল রানা, সোহাগ, উইলকক, ওচেন্ডোরা। কিন্তু মিন্টু-ইউসুফ-ভাসানি-আরিফের গড়া রক্ষণব্যুহ ভাঙতে পারেনি তারা। সাদা-কালোদের আক্রমণে পরিকল্পনায় অভাব থাকায় সাফল্য আসেনি। অবশ্য ফেমির নেতৃত্বে প্রথম ৪৫ মিনিট মধ্যমাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে খেলতে থাকে শেখ জামাল। দ্বিতীয়ার্ধে কোচ এমেকার টিপস পেয়ে শিষ্যরা উজ্জীবিত হয়ে খেলায় চমকে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা! তাতে একটা গোলও আদায় করে নেয় দ্রুত। তবে দায়টা কিন্তু শেখ জামাল রক্ষণের। ইয়াসিনের দেয়া বল ধরে স্ট্রাইকার ওয়াহেদ আয়েশিভাব নিয়ে দাঁড়ানো কোমল ও রায়হানকে কাটিয়ে পেনাল্টি বক্সের ঠিক ওপর থেকে বামপায়ের মাটি কামড়ানো শটে গোলরক্ষক আমিনুলকে পরাস্ত করেন। তাতে উত্তেজনা শুধু মাঠে ফিরেনি, উজ্জীবিত হয়েছে সাদা-কালো সমর্থকরাও। অতিরিক্ত সময়ে শেষ জামালের দুই বিদেশী কেস্টার ও সামনিক সহজ সুযোগ নষ্ট না করলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারতো।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: