খেলা

আক্ষেপ নিয়েই অলিম্পিকে যাবে বাংলাদেশ

ঢাকা: উসাইন বোল্ট, আসাফা পাওয়েলরা যে মঞ্চে রেকর্ড গড়ার স্বপ্ন দেখে সেখানে বাংলাদেশের প্রবেশাধিকার বলতে আয়োজকদের দয়া-দাক্ষিণ্য। আসন্ন লন্ডন অলিম্পিক গেমসেও ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে কয়েকজন প্রতিযোগি যাবে।

তবে চারটি খেলায় খেলোয়াড় পাঠানো প্রায় নিশ্চিত। সেভাবে প্রস্তুতিও নিচ্ছে বিওএ। জিমনাস্টিক্স, স্যুটিং, আর্চারি এবং তায়কোয়ান্দো ডিসিপ্লিনে খেলোয়াড়দের অনুশীলনও চলছে। অতএব এই খেলাগুলোতে বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করবেই।

কোনো প্রত্যাশা না থাকলেও শুধু অংশগ্রহনের জন্যই প্রশিক্ষনের পেছনে প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করছে বিওএ। ভারতে অনুষ্ঠেয় সাফ গেমস ও লন্ডন অলিম্পিককে সামনে রেখে প্রাথমিকভাবে আটটি ডিসিপ্লিন ঘিরে অনুশীলন প্রস্ততি নেয় বিওএ। এ উপলক্ষ্যে গত জুনে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে  ২ কোটি ৫৪ লাখ টাকার একটি বাজেট দিয়েছিলো বিওএ। কিন্তু মন্ত্রণালয় এতে অপারগতা প্রকাশ করায় নিজেদের উদ্যোগেই অনুশীলন শুরু করে বিওএ।

বিওএর ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান অভিজিত কুমার সরকার (একে সরকার) জানান, জুলাইয়ে অনুষ্ঠেয় লন্ডন অলিম্পিকের জন্য জিমন্যাস্টিক, তায়কোয়ান্দো, শ্যূটিং, আর্চারি ও কুস্তির ডিসিপ্লিনকে বাছাই করেছিলাম আমরা। কিন্তু পরে কুস্তি ডিসিপ্লিনটি বাদ দেওয়া হয়।

তিনি জানান, জিমন্যাস্টিকসের জন্য আমরা একজন প্রতিযোগী পাঠাবো। এই ডিসিপ্লিনে আমরা কাজী সাইক সিজারকে পাঠাবো। সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করায় তার অনুশীলনের জন্য আমাদের কোনো খরচ করতে হচ্ছে  না। সস্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত সুলতানা কামাল চতুর্থ সেন্ট্রাল সাউথ এশিয়ান আর্টিস্টিক জিমন্যাস্টিক চ্যাম্পিয়নশিপে মেন্স প্যারালাল বারসে স্বর্ণপদক জয়ী সাইক  যুক্তরাষ্ট্রে নিজ উদ্যোগেই অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে।

তায়কোয়ান্দোতে এ বছরের জানুয়ারি থেকে মোট দশজন প্রতিযোগী নিয়ে আমরা অনুশীলন শুরু করেছি।প্রতিযোগীরা হলেন শ্রাবণী বিশ্বাস, শারমিন কেয়া, শাহনাজ আক্তার, শাম্মী আক্তার, নাজরাতুন নাঈম, পারুল আক্তার, আনোয়ার হোসেন, কুরবান আলী, তামজীদ হোসেন ও জাহিদুল ইসলাম।

অন্যদিকে চারজন মেয়ে ও দুইজন ছেলেকে নিয়ে গত বছরের মে থেকে অনুশীলন শুরু করে শূটিং ফেডারেশন। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে শারমিন রতœা, শারমিন আক্তার, তৃপ্তি দত্ত ও সাদিয়া এবং ৫০ মিটিার এয়ার রাইফেলে চন্দন ও রমজান আলীকে নিয়ে অনুশীলন শুরু করা হয়। তবে পারফরমেন্স ভাল না হওয়ায় পরে ৫০ মিটার এয়ার রাইফেলের অনুশীলন বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানান একে সরকার।

এদিকে গত মার্চ মাস থেকে অনুশীলন শুরু করে আর্চারি। বৃটিশ কোচ রিচার্ড জন প্রিস্টম্যানের অধীনে বর্তমানে ছেলেদের বিভাগে ইমদাদুল হক মিলন, শেখ সজিব, রামকৃষ্ণ  এবং মেয়েদের বিভাগে মাথুই প্রু নাজমিন খাতুন ও বিউটি রায় অনুশীলন করছেন।

তিনটি ইভেন্টে এ পর্যন্ত অনুশীলনে ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে এবং অলিম্পিক পর্যন্ত ব্যয় প্রায় কোটি টাকায় দাঁড়াবে বলে জানান একে সরকার। তবে এই ডিসিপ্লিনগুলো থেকে আমাদের প্রত্যাশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বাংলানিউজকে বলেন,‘কোনো ডিসিপ্লিনেই আমরা পদক প্রত্যাশা করছি না। চারটি ইভেন্টেই ওয়াইল্ড কার্ড নিয়ে আমাদের খেলতে হবে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন,‘এত টাকা খরচ করে আমরা অনুশীলন চালাচ্ছি। অথচ একটাও কোটা প্লেস পেলাম না এটাই আক্ষেপ।’

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: