রাজনীতি

দিগন্ত টিভিতে ‘স্বচ্ছন্দ’ কাদের সিদ্দিকী

রিয়াজুল বাশার

ঢাকা, মার্চ ০৬ – জামায়াতে ইসলামীপন্থী হিসেবে পরিচিত দিগন্ত টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার পক্ষে যুক্তি দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ওই চ্যানেলে অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে স্বচ্ছন্দ বোধ করেন তিনি।

বীরউত্তম খেতাবপ্রাপ্ত এই মুক্তিযোদ্ধার দাবি, তিনি মালিক দেখে টিভির অনুষ্ঠানে যান না, যান তার কথা তুলে ধরতে।

তবে যুদ্ধাপরাধের বিচার দাবিতে আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক শাহরিয়ার কবিরের মনে করেন, অর্থের ‘লোভে’ ‘জামায়াতের টিভিতে’ যাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সাবেক এই নেতা।

স¤প্রতি দিগন্ত টেলিভিশনে ‘সবার উপরে দেশ’ নামে একটি টক শো উপস্থাপন শুরু করছেন কাদের সিদ্দিকী। প্রতি শনিবার রাত সোয়া ১১টায় অনুষ্ঠানটি স¤প্রচার হচ্ছে।

খেতাবপ্রাপ্ত একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল জামায়াতপন্থী বলে পরিচিত টেলিভিশন চ্যানেলে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার বিষয়ে মঙ্গলবার জানতে চাইলে কাদের সিদ্দিকী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এসব বাজে কথা নিয়ে মাথা ঘামাবার সময় আমার নেই।”

“কে মালিক, কে শ্রমিক, তা আমার দেখার বিষয় নয়। আমার কাছে আমার বক্তব্যই মূল,” বলেন তিনি।

দিগন্ত টেলিভিশনের চেয়ারম্যান মীর কাশেম আলী। জামায়াতের এই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালও তদন্ত করেছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন কাদেরিয়া বাহিনীর প্রধান কাদের সিদ্দিকী বলেন, “কে আওয়ামী লীগের, আর কে জামায়াতের, তা আর এখন আমার কাছে দেখার বিষয় নয়।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের øেহধন্য কাদের সিদ্দিকী ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু তাতে সফল না হয়ে ভারতে পাড়ি জমান তিনি। এর পর ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে তিনি দেশে ফেরেন।

দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগে যোগ দেন কাদের সিদ্দিকী। পরে দল থেকে বহিষ্কারের পর তিনি কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ নামে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন।

দিগন্তে অনুষ্ঠান করার পাশাপাশি অন্য টিভির সমালোচনা করে কাদের সিদ্দিকী বলেন, “ওদের (দিগন্ত টিভি) ওখানে গেছি, আমার কোনো কথা এডিট করে ফেলে দেয়নি। কিন্তু আওয়ামী লীগ মনোভাবাপন্ন চ্যানেল হিসেবে পরিচিত কেউ কেউ আমার বক্তব্য কেটে ফেলেছে।”

এদিকে দিগন্ত টেলিভিশনে মুক্তিযোদ্ধা কাদের সিদ্দিকীর অনুষ্ঠান উপস্থাপনাকে ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলছেন একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির নির্বাহী সভাপতি শাহরিয়ার কবির।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “একজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা যদি জামায়াতের সামান্য টাকার লোভ সামলাতে না পারেন, তাহলে তা আমাদের জন্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

কিছু কিছু মুক্তিযোদ্ধার বিষয়ে পুনর্মূল্যায়ন দরকার- মন্তব্য করে শাহরিয়ার কবির বলেন, “১৯৯২ সালে আমরা যখন ঘাতক-দালাল নিমর্ূূল কমিটির মাধ্যমে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলন করছিলাম, তখন থেকে এ বিচারের বিরোধিতা করে আসছে কাদের সিদ্দিকী।”

“দিগন্ত টিভি চলে জামায়াতের পৃষ্ঠপোষকতায়। এদের অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা গিয়ে অনুষ্ঠান করলে নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হতে পারে,” বলেন তিনি।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: