জাতীয়

দেশে এখন বিদেশীরাও নিরাপদ নন : খালেদা জিয়া

ঢাকা : বাংলাদেশে এখন বিদেশিরাও নিরাপদ নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলের নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ঢাকা বার এসোসিয়েশনের নবনির্বাচিত কর্মকর্তাদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সোমবার রাতে ঢাকার কূটনীতিকপাড়ায় সৌদি দূতাবাসের এক কর্মকর্তা দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত হন।

এ প্রসঙ্গ টেনে খালেদা জিয়া বলেন, ‘এই সরকার বেডরুমের নিরাপত্তা দিতে পারছে না, রাস্তাঘাটে নিরাপত্তা দিতে পারছে না, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা দিতে পারছে না। এমনকি বিদেশিরাও আজ এ দেশে নিরাপদ নয়। কোথায় আজ আইনের শাসন?’

দেশে আওয়ামী দুঃশাসন চলছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘দেশে আজ দুই রকম শাসন চলছে। আওয়ামী লীগের জন্য এক রকম। বিএনপি ও সাধারণ মানুষের জন্য আরেক রকম।’

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের লোকেরা খুন করলে তাদের ধরা হয় না। আর ধরা পড়লেও তারা ছাড় পেয়ে যায়। অপরদিকে বিএনপির লোকেরা অপরাধ না করলেও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়। গ্রেফতার করা হয়।’

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলেই দেশের আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি হয় বলেও অভিযোগ করেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘আজ  রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ কেউ নিরাপদ নয়। সবার ওপরই চলছে জুলুম-নির্যাতন। সাংবাদিকরাও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এমনকি তাদের খুন পর্যন্ত করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত মানুষ খুন হচ্ছে। গুম হচ্ছে। ডাকাতি হচ্ছে। আর সরকার ঘুমিয়ে রয়েছে।’

আওয়ামী লীগের এসব নির্যাতন রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে বলেও সতর্ক করে দেন বিরোধীদলের নেতা খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, ‘আপনারা (সরকার) যে জুলুম নির্যাতন করছেন তা রেকর্ড করা হচ্ছে। নিপীড়ন, নির্যাতন, হত্যা, গুম, খুন, দুর্নীতি সব কিছুর হিসাব দিতে হবে।’

‘ফখরুদ্দিন-মঈনউদ্দিন ও বিদেশিদের বস্তাভর্তি টাকা দিয়ে ক্ষমতায় এসে দেশ বিক্রি করে দেবেন, জনগণ তা হতে দেবে না’ বলেও মন্তব্য করেন খালেদা।

আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘অতীতে ভুল করলে তাদের ক্ষমা করা হয়েছে। এবার ভুল করলে ক্ষমা করা হবে না। শাস্তি দেওয়া হবে। পদ ও দলকে থেকে বহিষ্কার করা হবে। বিএনপি অনেক বড় দল। এখানে নেতার অভাব হবে না।’

সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট লুৎফে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তৃতা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দীন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, যুগ্ম-মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দীন খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, আইনজীবী নেতা অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দীন, জয়নুল আবেদিন, হেলাল উদ্দীন মোল্লা, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, মো. মহসীন, গোলাম মোস্তফা খান, খোরশেদ আলম, মোসলেহ উদ্দীন জসিম, খন্দকার দিদারুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম বাবুল ও ইকবাল হোসেন।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: