অন্যান্য খবর

তারানাই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি’

ঢাকা, মার্চ ০৯ – বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সম্মেলনে সভাপতি পদে নিজের নাম প্রস্তাব করবেন না তারানা হালিম। তবে অন্তবর্তীকালীন সময়ে তিনিই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর কয়েকজন সদস্য।

শুক্রবার সকালে এক সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খায়রুল আলম সবুজ জানান, সভাপতিমণ্ডলীর বৈঠকে তারা তারানাকেই এ দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও ১৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর মাত্র পাঁচজন সদস্য ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে এক প্রশ্নের জবাবে জানিয়েছেন তিনি।

ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির মিলনায়তনে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে সব মিলিয়ে উপস্থিত ছিলেন ২৮ জন, যাদের অর্ধেকই কিশোর বয়সী। ইব্রাহিম হোসেন নামের এক ব্যক্তি তাদের নিয়ে এসেছেন বলে উল্লেখ করেন এই কিশোরদের অনেকেই।

সংবাদ সম্মেলনে সবুজ বলেন, “গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তারানা হালিম সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সভাপতিমণ্ডলীর তৃতীয় সদস্য। সেই হিসাবে তিনি সভাপতির অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হতে পারেন।”

বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আলমগীর কুমকুম গত ২৭ ফেব্রুয়ারী মারা গেলে সংগঠনের দুই নেতা সংসদ সদস্য তারানা হালিম ও চিত্রনায়ক আকবর হোসেন পাঠান ফারুকের মধ্যে নেতৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। তারা দুজনেই নিজেদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি দাবি করে আসছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে সংগঠনের সদস্যরাও বিভক্ত হয়ে গেছেন দুই ভাগে।

খায়রুল আলম সবুজ জানান, শুক্রবার সকালে সভপতিমণ্ডলির সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে যে, আপাতত তারানা হালিমই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যরা আলোচনার মাধ্যমে আগামী এক মাসের মধ্যে একজন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নির্ধারণ করবেন। এরপরে কাউন্সিল সভার মাধ্যমে সভাপতি ও পূর্ণাঙ্গ কমিটি নির্বাচন করা হবে।

তিনি স্বীকার করেন যে, ‘একটি বিক্ষিপ্ত অবস্থার’ মধ্যে তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।

“সংগঠনের অনেক সদস্য ছড়ানো ছিটানো হয়ে রয়েছে। তাদের জড়ো করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে”, বলেন সবুজ।

১৫ সদস্যের কমিটির মাত্র পাঁচজনের উপস্থিতিতে এ রকম একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় কি না জানতে চাইলে সুবজ-তারানা দুজনেই দাবি করেন, বৈঠকে না আসতে পারলেও আরো দুই সদস্য এই সিদ্ধান্তে সমর্থন দিয়েছেন। এতেই কোরাম পূর্ণ হয়েছে।

তারানা হালিম বলেন, “এ সংগঠন ধ্বংস হয়ে যাক, তা আমরা কেউ চাই না। যে কেউ এ সংগঠনের সভাপতি হতে পারেন। তবে তা গঠনতন্ত্র মেনেই হতে হবে। আপনাদের সামনে আমি বলছি, আগামী কাউন্সিলে সভাপতি হিসাবে আমি আমার নাম প্রস্তাব করবো না। তবে সভাপতিমণ্ডলীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমি আপাতত ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করব।”

১৯৯৭ সালের ২৩ জুন বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের বর্তমান নির্বাহী কমিটি গঠন করার পর আর কোনো নির্বাচন বা সম্মেলন হয়নি।

ফারুকের দিকে ইংগিত করে সংবাদ সম্মেলনে তারানা বলেন, “অন্য কেউ নিজেকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসাবে পরিচয় দিলে সেটা অবৈধ হবে। এই জাতীয় কর্মকাণ্ডের সাথে যারা থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে এটিএম শামসুজ্জামান, ড. এনামূল হক ও ফরিদ আলী সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

‘বড় ভাই নিয়ে এসেছেন’

ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটির মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ মাধ্যমের কর্মীরা ছাড়া বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন মোট ২৮ জন। উপদেষ্টামণ্ডলীর পাঁচ সদস্য ও কয়েকজন নেতাকর্মী বাদে এদের অর্ধেকই বয়সে কিশোর।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে হাততালি দিয়ে উঠলে সাংবাদিকরা কয়েকজন কিশোরের কাছে জানতে চান- এখানে কাদের অনুষ্ঠান হচ্ছে।

জবাবে জাকির হোসেন নামে একজন লাজুক হাসিতে বলেন, “আমি তো ভাই জানি না। ভাই নিয়ে আসছে। ভাই হাততালি দিচ্ছে বলে আমিও দিচ্ছি।”

জাকিরের পাশে থাকা অহিদ নামের আরেকজন জানালেন, তারা শান্তিবাগের একটি আসবাবের দোকানে কাজ করেন। এলাকার ‘বড়ভাই’ ইব্রাহিম হোসেন তাদের সংবাদ সম্মেলনে নিয়ে এসেছেন।

আরো কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা গেল, তারাও একইভাবে অন্য কারো সঙ্গে এসেছেন, যদিও তাদের বেশিরভাগই জানেন না, এটা কীসের সংবাদ সম্মেলন।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: