জাতীয়

মূল্যস্ফীতির মূলে তেলের দাম: কেন্দ্রীয় ব্যাংক

আবদুর রহিম হারমাছি

ঢাকা, মার্চ ০৯ – জ্বালানি তেলের দর ও চাহিদা বৃদ্ধিকেই মূল্যস্ফীতির বাড়ার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সা¤প্রতিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণ ব্যাখা করে বলা হয়েছে, “প্রধানত আন্তর্জাতিক বাজারে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি, স্থানীয় বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদার প্রসার মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির মূল কারণ বলে প্রতীয়মান হয়।”

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মাসের গড় ধরে গত জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৯১ শতাংশ। আর আগের বছরের জানুয়ারির তুলনায় (পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে) এই হার ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

গত অর্থবছরের জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির গড় হার ছিল ৮ দশমিক ১৪ এবং পয়েন্ট টু পয়েন্ট ভিত্তিতে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ।

অবশ্য মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।

গত ৪ মার্চ জাতীয় সংসদে উপস্থাপিত ‘বাজেট ২০১১-১২: প্রথম প্রান্তিক (জুলাই-সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও আয়-ব্যয়ের গতিধারা এবং সামষ্টিক অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, গত অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের গড় মূল্যস্ফীতির (৭ দশমিক ৬ শতাংশ) চেয়ে চলতি অর্থবছরের এ সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি (১১ দশমিক ৪১ শতাংশ) অনেকটা ঊর্ধ্বমুখী। মূলত খাদ্য মূল্যস্ফীতির জন্য এটা ঘটেছে।

চলতি অর্থবছরে খাদ্য-বহির্ভূত মূল্যস্ফীতিও সাধারণ মূল্যস্ফীতি বাড়ার কারণ ঘটাচ্ছে বলে উল্লেখ করেছেন মুহিত।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০১২ সালের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম কমে প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারে নেমে আসতে পারে। পাশাপাশি দেশে বোরো ধানের ‘ভালো ফলন’ ও কৃষি খাতে ‘সন্তোষজনক’ প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনতে ‘ইতিবাচক’ ভূমিকা রাখবে বলে অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেছেন।

এ বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এটা সুখের খবর যে, আমাদের চাল আমদানি করতে হচ্ছে না। যে মজুদ আছে, তাতে আগামী বেশ কিছুদিন আমদানি করতে হবে বলে মনে না। এখন মূল্যস্ফীতি বাড়ছে মূলত জ্বালানি তেলের কারণে।”

তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে বেশ কয়েক দফা তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ভাড়াভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কারণে তেলের চাহিদাও অনেক বেড়েছে।

“তেলের দাম এমন এক বিষয়, যার প্রভাব পরিবহন ব্যয়সহ প্রায় সব পণ্যের ওপর পরে। আদাদের এখানে সেটাই ঘটেছে।”

অবশ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) জ্বালানি তেল ছাড়া অন্য সব পণ্যের আমদানি কমেছে।

এই সময়ে চাল আমদানির জন্য এলসি (ঋণপত্র) খোলার পরিমাণ কমেছে ৭৩ শতাংশ। মূলধন যন্ত্রপাতি আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ কমেছে ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ। আর শিল্পের কাঁচামাল আমদানির এলসি কমেছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

অন্যদিকে জ্বালানি তেল আমদানির এলসি খোলার পরিমাণ ৯৩ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়েছে।

রেমিটেন্স ও বিদেশিক মুদ্রার মজুদ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, ‘বিশ্বমন্দার বিলম্বিত প্রভাব’ কাটিয়ে অর্থবছরের শেষভাগে রেমিটেন্স প্রবাহে ইতিবাচক গতি এসেছে। গত অর্থবছরে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের পরিমাণ বেড়েছে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ।

২০১১-১২ অর্থবছরের আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ১৫ শতাংশ। আর জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে রপ্তানি আয়ের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩ শতাংশের বেশি।

গত ০৬ মার্চ পর্যন্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩ কোটি ৯৪ লাখ (১০ দশমিক ০৩ বিলিয়ন) ডলার। গত বছরের একই সময়ে ১০ দশমিক ৩০বিলিয়ন ডলার ছিল রিজার্ভে।

আমদানি পরিস্থিতি সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, গত অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ৪১ দশমিক ৮ বাড়লেও চলতি অর্থবছরে তা সহনীয় হয়ে এসেছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে আমদানি ব্যয় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৬১ শতাংশ।

এই সময়ে ভোগ্যপণ্য, মূলধনী যন্ত্রায়শ এবং শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় আগের অর্থবছরের তুলনায় যথাক্রমে ৭৩ দশমিক ১৯ শতাংশ, ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ এবং ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

অন্যদিকে জ্বালানি তেল আমদানিতে ব্যয় বেড়েছে ৯৩ দশমিক ২৬ শতাংশ।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: