জাতীয়

কর্মসূচির সঙ্গে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিও দিলেন খালেদা

ঢাকা, মার্চ ১২ – আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করতে ডাকা নয়া পল্টনের মহাসমাবেশে কার্যত নির্বাচনী বক্তৃতাই দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া।

সোমবার দলীয় কার্যালয়ের সামনে বহুল আলোচিত এই সমাবেশে বিরোধীদলীয় নেতা সরকার পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের সমালোচনার পাশাপাশি সরকারে গেলে এসব ক্ষেত্রে বিএনপি কী কী করবে, তাও বলেছেন।

বর্তমান সরকার গত বছর তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতিলের পর থেকে বিএনপি বলে আসছে, দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনে যাবে না তারা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবিতেই সরকারের মেয়াদ শেষের দুই বছর আগে ঢাকায় এই মহাসমাবেশের ডাক দেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

গ্রেপ্তার, বাধা, বাস বন্ধ- সমমিলিয়ে সা¤প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ নেয় এই সমাবেশ। গ্রেপ্তার ও বাধার প্রতিবাদে ২৯ মার্চ হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে সমাবেশে।

সমাবেশে খালেদা জিয়া চারদলীয় জোটের পরিসর বাড়ানোর ঘোষণাও দেন। নতুন করে ১০টি দল যোগ হয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে।

দেড় ঘণ্টার টানা বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে ১০ জুন পর্যন্ত সরকারকে সময় বেঁধে দেওয়ার ঘোষণার আগে আগামীতে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে কী কী করবেন, তা তুলে ধরেন খালেদা। বক্তব্যে তার আগের অংশ ছিল সরকারের সমালোচনাভরা।

তবে আগের বড় কর্মসূচিতে যুদ্ধাপরাধে অভিযুক্ত প্রধান রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীর কারাবন্দি নেতাদের মুক্তির দাবি করলেও সোমবার যুদ্ধাপরাধের বিচার বিষয়ে কোনো কথাই বলেননি।

এবার তিনি কথা বলেননি বিএনপির ভবিষ্যত রাজনৈতিক নেতৃত্ব নিয়েও। এর আগে সিলেট ও চট্টগ্রামের জনসভায় বিএনপির ভবিষ্যত নেতৃত্ব নিয়ে তার বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা জল্পনা সৃষ্টি করে। সিলেটের বক্তব্যে নতুন প্রজন্মের নেতৃত্বের কথা বললেও চট্টগ্রামে নবীন-প্রবীণে সমন্বয়ের আশ্বাস দেন।

প্রসঙ্গত, লন্ডনে নির্বাসনে থাকা তার বড় ছেলে তারেক রহমানই পদবিতে বিএনপির দ্বিতীয় ক্ষমতাবান।

খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রাথমিকভাবে ১ কোটি গরিব মানুষের জন্য রেশনের ব্যবস্থা করা হবে। দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনা হবে। বাংলাদেশকে পরিণত করা হবে মধ্যম আয়ের দেশে।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের সমালোচনা করেন বিএনপি চেয়ারপারসন। সমালোচনা করেন গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর।

তিনি বলেন, “লোডশেডিংয়ে আজ জীবন অতিষ্ঠ। অথচ কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে দলীয় লোকজন ও আত্মীয় স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দিতে নয়, লুটপাটের জন্যই এই কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের কাজ বিনা দরপত্রে দেওয়া হয়েছে।”

নতুন শিল্প কারখানায় বিদ্যুৎ দিতে না পারার জন্য সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে নতুন কলকারখানা স্থাপনের পাশাপাশি বন্ধগুলো চালু করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।

দেশে চাহিদা অনুপাতে বিদ্যুতের কম উৎপাদনের প্রেক্ষাপটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ কীভাবে দেওয়া হবে, তার উত্তরও বিএনপির কাছে আছে বলে জানান খালেদা। তিনি বলেন, “কীভাবে দেব? সেই টেকনিক আমাদের আছে, এখন বলব না, সময় হলেই বলব।”

যুবকদের কর্মসংস্থানের আশ্বাস দিয়ে তা পূরণের ক্ষেত্রেও বিএনপির ‘টেকনিক’ রয়েছে বলে জানান খালেদা।

সীমান্তে বিএসএফের হত্যাকাণ্ডের জন্য মহাজোট সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্র নীতিকেই দায়ী করেন বিরোধী নেতা।

তিনি বলেন, “এই সরকারের আমলে সীমান্তে নিরাপত্তা বলে কিছুই নেই। বিএসএফ ভেতরে ঢুকে বাংলাদেশিদের হত্যা করেছে। এই সরকার প্রতিবাদ পর্যন্ত করেনি।”

“আমরা বলতে চাই, আমরা আমরা প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে দেওয়া-নেওয়ার ভিত্তিতে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতে চাই। কিন্তু একতরফা দিয়ে যাব, বিনিময়ে কিছুই পাব না, সেটা হবে গোলামি। এই সরকার গোলামির চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছে। এই দুর্বল-নতজানু সরকারকে বিদায় করতে হবে।”

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রক্ষার পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কোন্নয়নকে গুরুত্ব দেবে বলে জানান খালেদা। তার ভাষায়, বর্তমান সরকারের কার্যক্রমে মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশ বন্ধুহীন হয়ে পড়েছে।

বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি করে বাংলাদেশকে আঞ্চলিক বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনাও জানান বিএনপি চেয়ারপারসন।

বিএনপি ক্ষমতায় গেলে জনপ্রতিনিধিদের হাতে আরো ক্ষমতা দেওয়া হবে বলেও অঙ্গীকার করেন তিনি।

পুঁজিবাজারে কারসাজি করে অর্থ ‘লুটপাটে’ আওয়ামী লীগের নেতাদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে দাবি করে ক্ষমতায় গেলে তাদের বিচারের ঘোষণাও দেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “শেয়ার মার্কেটে এতবড় লুট হয়ে গেল, তাদের কারো বিচার হয়নি, বরং তাদের আরো অধিক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী বললেন, যারা লুট করেছে, তারা এত ক্ষমতাবান, তাদের নাম প্রকাশ করার ক্ষমতা তার নেই। তাহলে বুঝতে বাকি থাকে না, এই ক্ষমতাবান ব্যক্তি কারা।

“এর সঙ্গে আওয়ামী লীগের লোকজন যারা জড়িত, তাদের জনগণ চিনে ফেলেছে, তাদের ধরা হবে,” বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

এছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা, বয়স্ক ও বিধবা ভাতা বাড়ানো, বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমে পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত, ছাত্রীদের ডিগ্রি পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা চালু এবং কারিগরি শিক্ষার প্রসারের কথা বলেছেন তিনি।

রাজধানীর যানজট নিরসনে মেট্রো রেল চালু এবং ঢাকার সঙ্গে আশপাশের জেলাগুলোর যোগাযোগ সহজ করতে কমিউটার ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন খালেদা।

আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন এবং দুর্নীতি দূর করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

খালেদা বলেন, “আমি ক্ষমতার রাজনীতি করি না, প্রতিহিংসার রাজনীতি করি না, জনগণের জন্য রাজনীতি করি। প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সরকারে যেতে চাই না, দেশকে রক্ষার জন্য ক্ষমতায় যেতে চাই। ক্ষমতায় গেলে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে সবার সঙ্গে আলোচনা করে দেশ পরিচালনা করব।”

মহাজোট তাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, “তারা ১০ টাকা কেজিতে চাল দিতে পারেনি, কৃষকদের বিনামূল্যে সার দিতে পারেনি, শুধু তাই নয়, প্রতিটি কৃষি উপকরণের দাম বাড়িয়েছে।”

অর্থনীতিতে সঙ্কট চলছে দাবি করে এ থেকে উত্তরণে সরকার পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে বলে দাবি করেন খালেদা। দলীয়করণের কারণে বিচার বিভাগের ওপর জনগণের আস্থাও নষ্ট হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

খালেদা বলেন, “বিচার বিভাগ আজ সম্পূর্ণ দলীয়করণ করা হয়েছে। অনেক বিচারক চাইলেও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না। এখন আওয়ামী লীগের জন্য এক বিচার, বিএনপিসহ বিরোধীদের জন্য আরেক বিচার। এই জন্য প্রবীণ আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিক উল হক বলেছেন, বিচারকরা আজ মুখ চেয়ে রায় দেন।”

গ্রামীণ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের পদ থেকে মুহাম্মদ ইউনূসকে সরানো সরকারের প্রতিহিংসামূলক আচরণের বহিঃপ্রকাশ বলেও দাবি করেন তিনি।

দলীয়করণের কারণে জনপ্রশাসন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না দাবি করে বিরোধীদলীয় নেতা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা মুখ খুলুন, নইলে পরে জনরোষে পড়বেন। জনগণের হাতে লাঞ্ছিত হবেন।”

সরকার গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করছে দাবি করে তিনি বলেন, “সত্য খবর দেয় বলে গণমাধ্যমকে ভয় পায় সরকার। এই সময়ে ১৫ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। সবশেষ খুন হয়েছে সাগর-রুনি। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার-টিচার আর হবে না। প্রধানমন্ত্রী নিজেই দায়িত্ব নিয়ে এখন বলছেন, আলামত মুছে গেছে। আলামত মুছে ফেলে এখন বলেন, মুছে গেছে!”

নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলন চালিয়ে যেতে সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তাতে বিএনপির সমর্থন থাকবে বলে জানান খালেদা।

তিনি বলেন, “বিএনপির এই মহাসমাবেশ লাইভ টেলিকাস্ট করতে চেয়েছিল এনটিভি, ইটিভি ও বাংলাভিশন। কিন্তু তাদের লাইসেন্স বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়েছে।”

দেশে একদলীয় শাসন চলছে দাবি করে খালেদা বলেন, “দেশে এখন বাকশাল চলছে। গণতন্ত্র এখন বন্দি, এক জনের শাসন চলছে। এই গণতন্ত্র উদ্ধার করতে হবে।”

“এই সরকার অন্ধ, বধির, চোখে দেখে না, কানে শোনে না,” বলেন তিনি।

আমাদের বিদেশি টাকার প্রয়োজন হয় না’

আইএসআইয়ের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে নির্বাচন করার বিষয়ে সরকারি দলের নেতাদের বক্তব্যের জবাবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “আমাদের বিদেশি টাকার প্রয়োজন হয় না। আমাদের জনগণ রয়েছে।”

উল্টো আওয়ামী লীগই বিদেশি অর্থে নির্বাচন করেছিল বলে দাবি করেন তিনি।

কিছুদিন আগে খালিজ টাইমসে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগ নেতারা বলে আসছেন, বিএনপি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার টাকায় নির্বাচন করে।

নয়া পল্টনের এই সমাবেশ যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার জন্য বলেও বলে আসছিলেন সরকারি দলের নেতারা।

খালেদা বলেন, “দেশের মানুষ জানে, কারা দেশপ্রেমিক, কারা অন্য দেশের এজেন্ট। বস্তায় বস্তায় টাকা নিয়ে নির্বাচন করেছে, ক্ষমতায় গিয়ে কারা অন্য দেশের স্বার্থ রক্ষা করে।”

শেখ হাসিনার বিভিন্ন বক্তব্যের সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সংসদসহ বিভিন্ন জায়গায় যা বলেন, এগুলো রুচিশীল, দায়িত্বশীল মানুষের ভাষা হতে পারে না। আমি প্রধানমন্ত্রীকে বলব, বিবেক থাকলে দয়া করে আয়নায় নিজের মুখ দেখবেন।”

“এমন কিছু বলবেন না, যাতে দেশের মানুষ লজ্জা পায়। প্রধানমন্ত্রীর পদের একটি মহিমা আছে, তা নষ্ট করবেন না।”

সরকার জন আতঙ্কে’

মহাসমাবেশে পদে পদে বাধা দেওয়া হয়েছে দাবি করে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “সরকার জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে, তাই তাদের এত ভয়। সরকার এখন আতঙ্কে ভুগছে। তাদের ভয় এখন জনগণকে। এতই যদি ভাল কাজ করেন, উন্নয়ন করেন, তবে কেন এত ভয়?

“এই মহাসমাবেশে বিভিন্নভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে। তিন দিন ধরে ঢাকা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। ব্যাপক বাধা উপেক্ষা করে তারপরও আপনারা এখানে উপস্থিত হয়েছেন, এ জন্য ধন্যবাদ। বাধা দিয়েও জনস্রোত ঠেকানো যায়নি।”

“সরকার যদি এতই জনপ্রিয়, তবে কেন তাদের এত ভয়। আমরা বলতে চাই সমাবেশ-সভা-মিছিল মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। এতে বাধা দেওয়া বাংলার জনগণ মেনে নেবে না,” সরকারকে হুঁশিয়ার করেন তিনি।

সমাবেশের আগে গ্রেপ্তার এবং সমাবেশে আসতে নেতা-কর্মীদের ‘বাধা’ দেওয়ার প্রতিবাদে ২৯ মার্চ হরতালও ডেকেছেন খালেদা। গ্রেপ্তার নেতা-কর্মীদের মুক্তিও দাবি করেন তিনি।

১০ জুন পর্যন্ত আলটিমেটাম

সমাবেশে নতুন জোট গঠনের ঘোষণা দিয়ে ১০ জুনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জোটের পক্ষ থেকে দাবি তুলে ধরেন খালেদা জিয়া।

তিনি বলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না। নতুন জোটের পক্ষ থেকে বলছি, এই সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে ১১ জুন ঢাকায় সমাবেশ করে কঠিন কর্মসূচি দেওয়া হবে। এতে হয় দাবি মেনে নেবে, নইলে সরকারকে বিদায় নিতে হবে।”

খালেদা জিয়ার ঘোষণার পর চারদলীয় জোটে অলি আহমদ নেতৃত্বাধীন এলডিপিসহ আরো ১০টি নতুন দল যোগ হল।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরোধিতা করে আওয়ামী লীগের এখনকার বক্তব্যের জবাবে খালেদা বলেন, “১৯৯৬ সালে আপনারাই দলীয় সরকারের অধীনে নয়, নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি করে আন্দোলন করেছেন। জ্বালাও-পোড়াও করে মানুষ হত্যা করেছেন। আজ আবার তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিপক্ষে আপনারা।’’

“এখন আমাদের বলছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার কি কোলে করে ক্ষমতায় বসাবে। আমরা বলতে চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নয়, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় পরিবর্তন হয়। এখন প্রধানমন্ত্রী ওই কথা যদি ঠিক হয়, তা হলে কি আপনি বলতে চান, ২০০৮ সালে মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দীন ওইভাবে আপনাদের ক্ষমতায় বসিয়েছে,” বলেন তিনি।

সাদেক হোসেনের সভাপতিত্বে সমাবেশে খালেদা জিয়া ছাড়াও বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নেতারা বক্তব্য দেন।

অফ হোয়াইট রংয়ের শাড়ি পড়া খালেদা বসেন মঞ্চের মাঝে একটি চেয়ারে, তার এক পাশে ছিলেন বিএনপির নেতারা, অন্য পাশে সমমনা দলগুলোর নেতারা।

সমাবেশ মঞ্চের পেছনের ব্যানারে খালেদা জিয়ার বিশাল প্রতিকৃতি স্থান পায়। তার পাশেই শোভা পাচ্ছিল জিয়াউর রহমান ও তারেক রহমানের প্রতিকৃতি।

Advertisements

About EUROBDNEWS.COM

Popular Online Newspaper

Discussion

Comments are closed.

%d bloggers like this: